বাকৃবি প্রতিনিধি : বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (বিএসভিইআর) আয়োজনে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আগামী শনিবার (৮ আগস্ট) উদ্বোধন হবে তিন দিনব্যাপী ৩২তম বার্ষিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন। দেশ-বিদেশের বিজ্ঞানী, গবেষক, শিক্ষক, প্রাণিচিকিৎসক, নীতিনির্ধারক, প্রাণিসম্পদ খাতের উদ্যোক্তা এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে ১৬টি সমান্তরাল বৈজ্ঞানিক অধিবেশনে মোট ৩১৮টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে। এর মধ্যে ১১৬টি মৌখিক এবং ২০২টি পোস্টার উপস্থাপনা রয়েছে।
'টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে ভেটেরিনারি শিক্ষা ও গবেষণার কার্যকর প্রয়োগ' প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বিশেষ সম্মানিত অতিথি হিসেবে থাকবেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া।
এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান এবং ইন্টার অ্যাগ্রো বিডি লিমিটেডের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ড. এ. কে. এম. খসরুজ্জামান।
সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ডেভেলপমেন্ট পলিসি সেন্টারের অধ্যাপক রবিন অ্যাল্ডার্স ভেটেরিনারি শিক্ষা, ওয়ান হেলথ ও টেকসই প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন। এছাড়া বিএসভিইআরের বার্ষিক বক্তৃতা প্রদান করবেন অধ্যাপক ড. এম. মাঈনউদ্দিন।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের মেডিসিন কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠকালে এসব তথ্য জানান বিএসভিইআরের কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. সুকুমার সাহা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) উপাচার্য ও বিএসভিইআরের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলাম, আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব আলম এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. তাহসিন ফারজানা, বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, বিএসভিইআরের কোষাধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ আলম মিয়া, বৈজ্ঞানিক উপ-কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. জয়ন্ত ভট্টাচার্য, সাংস্কৃতিক উপ-কমিটির সদস্যসচিব ড. নাসরিন সুলতানা।
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ড. সুকুমার সাহা বলেন, ১৯৯৪ সালে প্রথম সম্মেলনে আমি নিজেও শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী হিসেবে অংশ নিয়েছিলাম, যেখানে অতিথিসহ মোট অংশগ্রহণকারী ছিলেন প্রায় ১৫০ জন। এবার প্রায় ৬০০ জন নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারী এবং অতিথিসহ প্রায় ৭০০ জনের সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে গবেষণাপত্র উপস্থাপনাতেও এসেছে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। যেখানে একসময় মাত্র ১৫ থেকে ১৮টি মৌখিক উপস্থাপনা এবং সীমিত সংখ্যক পোস্টার ছিল, সেখানে এবার ২০০টিরও বেশি পোস্টার উপস্থাপন করা হবে।
সম্মেলনে সিম্পোজিয়াম, প্লেনারি সেশন, পোস্টার সেশন, বিশেষজ্ঞদের বৈজ্ঞানিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা এবং 'ড্রিম বিগ, স্টার্ট' শীর্ষক উদ্যোক্তা সন্ধ্যার আয়োজন আজ সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে।
সিকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আলিমুল ইসলাম বলেন, সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য ভেটেরিনারি খাতে উদ্যোক্তা তৈরিতে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা। এ উপলক্ষে সফল উদ্যোক্তারা তাদের সাফল্যের গল্প, ব্যবসায়িক কৌশল ও বিপণন অভিজ্ঞতা তুলে ধরবেন, যাতে শিক্ষার্থীরা বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিতে পারে। পাশাপাশি শিক্ষক, গবেষক, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও মাঠপর্যায়ের প্রাণিচিকিৎসকদের অভিজ্ঞতার আলোকে খাতের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর গবেষণার দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করা হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), টেলিমেডিসিনসহ চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দক্ষ গ্র্যাজুয়েট ও উদ্যোক্তা তৈরির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেন, বৈজ্ঞানিক সম্মেলন শুধু গবেষণাপত্র উপস্থাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, আন্তর্জাতিক ফেলোশিপ এবং শিল্পখাতের সঙ্গে একাডেমিয়ার সংযোগ তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গবেষণার সফল বাস্তবায়নে একাডেমিয়া-ইন্ডাস্ট্রি অংশীদারিত্ব অত্যন্ত জরুরি।
আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মাহবুব আলম বলেন, পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে হবে। এ ধরনের সম্মেলনের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ গবেষণা, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়, যা গবেষকদের নতুন গবেষণার দিকনির্দেশনা দেয়। দেশের ভেটেরিনারি খাতের সবচেয়ে বড় গবেষণা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিএসভিইআর গবেষণার ফলাফল বিনিময়, জ্ঞান বিস্তার এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার পথনির্দেশনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. তাহসিন ফারজানা বলেন, সম্মেলনে উপস্থাপিত মৌলিক ও প্রয়োগভিত্তিক গবেষণার ফলাফল নতুন জ্ঞান ও প্রযুক্তি গবেষক, প্রাণিচিকিৎসক এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছে পৌঁছে দেবে। বিভিন্ন রোগের ভ্যাকসিন উদ্ভাবনসহ খামারিদের জন্য উপযোগী বহু গবেষণার ফলাফল এবারের সম্মেলনে উপস্থাপিত হবে। পাশাপাশি অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্সের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও আলোচনা হবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা এসব গবেষণালব্ধ তথ্য খামারিদের কাছে পৌঁছে দেবেন, যাতে তারা গবেষণার সুফল বাস্তবে কাজে লাগাতে পারেন।
এছাড়া আগামীকাল সন্ধ্যায় সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষক, গবেষক এবং ভেটেরিনারি অনুষদে অধ্যয়নরত দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানান সাংস্কৃতিক উপ-কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক ড. নাসরিন সুলতানা।
মন্তব্য (০)