• আন্তর্জাতিক

মশা মারতে সামরিক ড্রোন নামাল শ্রীলঙ্কা

  • আন্তর্জাতিক

ছবিঃ সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক : এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ মশাবাহিত ডেঙ্গু প্রাদুর্ভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করছে দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কা। দেশটিতে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৭৭ হাজার ছাড়িয়েছে এবং অন্তত ৫৬ জন প্রাণ হারিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ ও মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করতে দেশটির বিমানবাহিনীর সামরিক ড্রোন মোতায়েন করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। 

সরকারি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রংটার্স জানিয়েছে,  বিমানবাহিনীর ড্রোন মূলত বহুতল ভবনের ছাদ, খোলা জায়গা এবং দুর্গম স্থানগুলোতে জমে থাকা বর্ষার পানি ও মশার প্রজননস্থল নিখুঁতভাবে শনাক্ত করছে। ড্রোন দিয়ে নজরদারির পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা মাঠপর্যায়ে বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নির্মাণাধীন ভবনে তল্লাশি চালিয়ে লার্ভা ধ্বংস করছেন।

গত মাসে শুরু হওয়া এই অভিযানে ইতোমধ্যে প্রায় ১১ হাজার মশার প্রজননস্থল পরিষ্কার করা হয়েছে এবং অসচেতনতার জন্য ৪ হাজারের বেশি স্থাপনার মালিককে জরিমানা করা হয়েছে।

এদিকে শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বৃষ্টি, সাম্প্রতিক বন্যার জমে থাকা পানি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এ বছর দেশটিতে প্রাদুর্ভাবের জন্য ডেঙ্গুর অত্যন্ত সংক্রামক 'ডিইএনভি-২’ স্ট্রেন বা ধরন দায়ী। আক্রান্তদের প্রায় ৭৫ শতাংশই এই ধরনে সংক্রমিত হচ্ছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজধানী কলম্বো ও নেগোম্বো অঞ্চল।

সরকারি পরিসংখ্যা বলছে, চলতি জুলাই মাসের প্রথম ২০ দিনেই দেশটিতে ২১ হাজার ৬৫০ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে প্রথম দুই সপ্তাহেই ১৮ হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এতে দেশটির স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত শয্যা ও বিশেষ ওয়ার্ড চালুর পাশাপাশি চিকিৎসক ও নার্সদের কর্মঘণ্টাও বাড়ানো হয়েছে। 

এছাড়াও পরিস্থিতি সামাল দিতে ভবিষ্যতে ডেঙ্গু টিকা ব্যবহারের চিন্তাভাবনাও করছে লঙ্কান সরকার। তবে একই সাথে একাধিক স্ট্রেন সক্রিয় থাকায় এর কার্যকারিতা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা কিছুটা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

মন্তব্য (০)





  • company_logo