• প্রশাসন

পরীমণিকাণ্ডে এডিসি সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসর

  • প্রশাসন

ছবিঃ সংগৃহীত

নিউজ ডেস্কঃ চিত্রনায়িকা পরীমণির সঙ্গে অবৈধ সম্পর্কের জেরে অবশেষে চাকরি খোয়াতে হলো ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. গোলাম সাকলায়েনকে। তাকে সরকারি চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। সর্বশেষ তিনি ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

‎বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

‎এর আগে গত ১৬ জুন এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (শৃঙ্খলা অনুবিভাগ) কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, ঘটনাটি সত্য হলেও তখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে তার দুদিনের মাথায় আজ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো।

‎তারও আগে ২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে উপসচিব রোকেয়া পারভিন জুঁই স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গোলাম সাকলায়েনকে ‘গুরুদণ্ড’ হিসেবে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান’ করার বিষয়ে মতামত চেয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) কাছে পাঠানো হয়েছিল। সেই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছিল, মোবাইল ফোনের ফরেনসিক রিপোর্ট অনুযায়ী বিভিন্ন সময় (দিন ও রাতে) চিত্রনায়িকা পরীমণির বাসায় এডিসি গোলাম সাকলায়েন অবস্থান করেছেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

‎সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২১ সালের জুন মাসে সাভারের বোট ক্লাবের ঘটনার পর চিত্রনায়িকা পরীমণি ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ এনে একটি মামলা করেছিলেন। মামলা দায়েরের পরদিন ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

‎সেই মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় ডিবির গুলশান বিভাগের তৎকালীন এডিসি গোলাম সাকলায়েনের সঙ্গে পরিচয় হয় এই অভিনেত্রীর। এরপর থেকে তাদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ এবং বাসা যাওয়া-আসা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরীমণি সাকলায়েনের রাজারবাগের সরকারি বাসভবনে গিয়ে প্রায় ১৮ ঘণ্টা অবস্থান করেন, যার সিসিটিভি ফুটেজ পরে গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়। 

‎২০২১ সালের ৪ আগস্ট রাতে পরীমণি গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এসব বিষয় স্বীকার করেছিলেন। সেই অসদাচরণের দায়েই অবশেষে চাকরি খোয়াতে হলো এই পুলিশ কর্মকর্তাকে।

মন্তব্য (০)





  • company_logo