• সমগ্র বাংলা

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ধান কাটা হারভেস্টারে চাঁদাবাজি, গণ ধোলাইয়ের শিকার ছাত্রদলের ৪ নেতা

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ধানকাটার সময় হারভেস্টার চালকের কাছে চাঁদা দাবির ঘটনায় গণ ধোলাইয়ের শিকার হয়েছে ছাত্রদলের স্হানীয় কমিটির ৪জন নেতা। পরে তাদেরকে পুলিশে তুলে দেয় তারা। তবে পুলিশের মধ্যস্হতায় মধ্যরাতে সমঝোতা করে ঘরে ফিরেছে তারা।

গতকাল শুক্রবার ওই ঘটনা ঘটে উপজেলার শালখুরিয়া ইউনিয়নের বড় তেতুলিয়া গ্রামে।

ওই ঘটনায় ছাত্রদলের দুই নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, প্রয়োজনীয় মজুর সংকট এবং বৈরী আবহাওয়া ঝড়োবৃষ্টির কারনে বোরো ধান দ্রুত ঘরে তুলতে হারভেস্টার মেশিন ধান কাটাসহ মাড়াই করাচ্ছে কৃষকরা। গতকাল শুক্রবার বড় তেঁতুলিয়া গ্রামে  হারভেস্টার দিয়ে ধান কাটার কাজ করছিল আল আমিন নামে একজন অপারেটর।  এসময় তার কাছে চাঁদা দাবি করে ছাত্রদলের পুটিমারা ইউনিয়ন এবং শাল খুরিয়া ইউনিয়ন ৪জন নেতা। চাঁদা না পেয়ে ধান কাটতে বাধা দেয় তারা৷ এসময় বিবাদে জড়িয়ে পড়ায় ক্ষুদ্ধ স্হানীয়রা ছাত্রদল নেতাদের উপর চড়াও হয়ে গণ ধোলাই দেয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্হলে ছুটে যায় নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। রনি, শাহী ইকবাল এবং জয় নামে ছাত্রদল ৪জন নেতাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন তারা। আটক নেতাদের ছাড়াতে মধ্যরাত পর্যন্ত চলে দেন দরবার। কোন মামলা না হওয়ায় সমঝোতায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে আটক নেতাদেরকে।

বিরামপুর সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার হারেজ উদ্দিন জানান,  জরুরী সেবা কেন্দ্র  ত্রিপল নাইনের ( 999) মাধ্যমে খবর পেয়ে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্হল পৌছে পরিস্হিতি নিয়ন্ত্রন করেছে। অভিযোগকারিরা কোন মামলা করেনি। তবে কেউ মামলা করলে চাঁদা দাবি কারির বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্হা নেবেন তারা।

অন্যদিকে চাঁদাবাজীর ঘটনায় ৪নং শালখুরিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের  ইকবাল হোসেন ও আলমগীর জয়কে প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল ধরনের পদ থেকে বহিষ্কার করেছে ছাত্রদল। তবে একই ঘটনায় আলোচিত পুটিমারা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি আহসান হাবীব রনি এখনো বহাল থাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।

অপর দিকে আহসান হাবীব রনি দাবি করেছেন, পুরো ঘটনাটি “সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন” এবং রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তিনি বলেন, ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হারভেস্টার মেশিনে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার প্রতিবাদ জানাতে সেখানে গিয়েছিলেন, যাতে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি নির্ধারিত রেট অনুযায়ী ধান কাটার মূল্য নেওয়া হয়। তার অভিযোগ, পরবর্তীতে হারভেস্টার মেশিনের এজেন্ট আল আমিন তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে জনসম্মুখে প্রচার করেন। এরপর স্থানীয় জনতা উত্তেজিত হয়ে তাদের মারধর করে পুলিশের হাতে দিয়েছিল।

মন্তব্য (০)





  • company_logo