• লিড নিউজ
  • স্বাস্থ্য

‎সারাদেশে ৯৫ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহের পরিকল্পনা সরকারের: তথ্য উপদেষ্টা

  • Lead News
  • স্বাস্থ্য

ছবিঃ সংগৃহীত

নিউজ ডেস্কঃ দেশে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করতে বৃহৎ পরিসরে ভ্যাকসিন সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‎ইউনিসেফের মাধ্যমে ১০টি ভিন্ন ধরনের প্রায় ৯ কোটি ৫০ লাখ (৯৫ মিলিয়ন) ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

‎আজ সকালে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান সরকারের এ লক্ষ্যমাত্রার কথা জানান।

‎এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন— মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ ইয়াসীন ও তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য অফিসার সৈয়দ আবদাল আহমদ।

‎সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরেন।

‎ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা জানান, এই বিশাল পরিমাণ ভ্যাকসিন সংগ্রহের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যেই ইউনিসেফকে ৮৩.৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রদান করেছে।

‎সংগৃহীতব্য এসব ভ্যাকসিনের মধ্যে এমআর, টিডি, বিসিজি, টিসিভি, ওরাল পোলিও (ওপিভি) ও পেন্টা ভ্যাকসিনসহ ১০টি জীবনরক্ষাকারী প্রতিষেধক রয়েছে।

‎ভ্যাকসিন সরবরাহের সময়সীমা নিয়ে জাহেদ উর রহমান জানান, মে মাসেই প্রথমে টিকার বড় ধরনের কয়েকটি চালান দেশে এসে পৌঁছেছে। গত ৩ মে ১৫ লাখ ডোজ আইপিভি, ৬ মে আরও ১৫ লাখ ডোজ এমআর ও ৯ লাখ ডোজ টিডি ভ্যাকসিন দেশে আসে। ১০ মে পর্যন্ত সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন সরকারের হাতে পৌঁছেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৯৫ মিলিয়ন ডোজের পুরো সরবরাহ সম্পন্ন হবে।

‎ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘বর্তমানে দেশে টিসিভি ও এইচপিভি ভ্যাকসিনের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। নতুন এই সরবরাহের ফলে আগামী ৮ থেকে ১২ মাস দেশে ভ্যাকসিনের কোনো ঘাটতি হবে না।’

‎প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা আরও বলেন, ভ্যাকসিনের গুণগত মান নিশ্চিত করতে কোল্ড চেইন ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর রাখা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ইউনিসেফ প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে।

‎হামের টিকা প্রদানের গুরুত্ব উল্লেখ করে উপদেষ্টা জানান, ৬ মাস থেকে ৫ বছরের নিচের প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে এমআর টিকা প্রদানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল, যা ইতোমধ্যেই অর্জিত হয়েছে।

‎এরপরও কোনো শিশু বাদ পড়ে থাকলে, তাদেরকে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।

‎সাম্প্রতিক সময়ে হামে শিশু মৃত্যুর বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, টিকাদান ও এর মাধ্যমে ইমিউনিটি তৈরিতে কিছুটা সময় প্রয়োজন হয়। সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যে কোনো মূল্যে শিশু মৃত্যু রোধে কাজ করে যাচ্ছে।

‎সংবাদ সম্মেলনে তথ্য উপদেষ্টা আরও জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘মডার্নাইজেশন এন্ড এক্সপানশন অব ইস্টার্ণ রিফাইনারী লিমিটেড (ইআরএল)’ প্রকল্প ২০৩০ সাল পর্যন্ত হাতে নেওয়া হয়েছে।

‎তিন সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর গত ৮ মে থেকে ইআরএল পুনরায় কার্যক্রম শুরু করেছে।

‎এছাড়া মে মাসের ১১ তারিখ পর্যন্ত দেশে কোনো লোডশেডিং হয়নি। সংবাদ ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা বলেন, আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ২০-৩১ মে পর্যন্ত বিআরটিএ-তে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন করা হবে।

‎তিনি আরও বলেন, ১২টি সেতুর টোল প্লাজায় ২০ মে’র মধ্যে স্বয়ংক্রিয় টোল আদায়ের জন্য পিওএস মেশিন বসানো হবে।

‎তিনি বলেন, নৌপথে নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১০-১৬ মে নৌ-নিরাপত্তা সপ্তাহ পালিত হচ্ছে। সদরঘাটে লঞ্চে সরাসরি নৌকা থেকে যাত্রী ওঠা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যাত্রীদের জন্য বসিলা ও শিমুলিয়া থেকে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

‎সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক বিশেষ সহকারী, তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য (০)





  • company_logo