দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুরের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় আজ একটি কেন্দ্রে ভুল সেট কোডে পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা গ্রহনের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
এতে পরীক্ষার্থী অভিভাবকদের উৎকন্ঠা দেখা দিয়েছে। তবে যথাযথ প্রক্রিয়ায়
খাতা মূল্যায়ন করে পরীক্ষার্থীদের নম্বর রেজাল্ট সিটে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বোর্ড কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে দ্বায়িত্বে গাফিলতির কারনে কেন্দ্র সচিব এবং ট্যাগ অফিসারকে চলতি পরীক্ষা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, সূচি অনুযায়ী আজ রবিবার ছিল বিজ্ঞান বিভাগের পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা। বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত সেট কোডে প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার কথা। সকাল ৯টায় শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক তৌহিদুল ইসলাম লটারির মাধ্যমে ‘১ নম্বর সেট’ এ প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার নির্দেশনা দেন। এরপর সংশ্লিষ্ট ট্যাগ অফিসাররা প্রতিটি কেন্দ্রে নির্ধারিত সেটের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন। কিন্তু দিনাজপুরের জেলা শহরের ইকবাল হাই স্কুল কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীদের নির্ধারিত ‘১ নম্বর সেটের পরিবর্তে ভুলবশত ‘৩ নম্বর সেটের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে পরীক্ষা গ্রহন করা হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা ট্যাগ অফিসার এবং কেন্দ্র সচিব বিষয়টি যথাযথভাবে যাচাই না করেই ‘৩ নম্বর সেট’ প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেছিলেন। ভুল সেটেই পরীক্ষা দিয়েছে পরীক্ষার্থীরা।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এস.এম. হাবিবুল হাসান বলেন, ইকবাল হাই স্কুল কেন্দ্রে ভুল সেট কোডে পরীক্ষা গ্রহনের বিষয়টি নজরে আসায় জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বোর্ড গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করেছে। দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেন্দ্র সচিব শিক্ষিকা সেলিমা সুলতানা এবং ট্যাগ অফিসার সদর উপজেলার পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলামকে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, পরীক্ষা শেষে বাড়ী ফিরে পরীক্ষার্থীরা অন্য কেন্দ্রের শিক্ষার্থীদের সাথে প্রশ্ন মেলানোর সময় প্রশ্নপত্রে বিস্তর ফারাক দেখতে পায়। মুহুর্তেই বিষয়টি অন্য পরীক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরীক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা। অভিযোগ পেয়ে টনড় নড়ে বোর্ড কর্তৃপক্ষের।
ইকবাল হাই স্কুল কেন্দ্রের এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক শামসুল হুদা বলেন, “শুধু একটি কেন্দ্রে আলাদা সেট কোডে পরীক্ষা হওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি। বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা না হলে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাবে।
পরীক্ষার্থী শাহরিয়ার নাফিস বলেন, আমরা পরীক্ষা শেষ করে বাসায় গিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে প্রশ্ন মিলিয়ে বুঝতে পারি আমাদের সেট আলাদা ছিল। এরপর থেকেই দুশ্চিন্তায় আছি—ফলাফলে কোনো সমস্যা হবে কি না?
এ বিষয়ে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন বলেন, ঘটনা জানার পর শিক্ষা বোর্ড জরুরি বৈঠকে করেছে। যেহেতু পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে, তাই ওই কেন্দ্রের পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষাটি সংশ্লিষ্ট ৩ নম্বর সেটের প্রশ্নের আলোকেই খাতা মূল্যায়ন করা হবে। ভুল সেটে পরীক্ষা দেওয়া প্রায় ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীর খাতা আলাদা ভাবে সংরক্ষণ করা হয়েছে। যথাযথ প্রক্রিয়া অনুনরন করে ফলাফল রেজাল্ট সিট প্রকাশ করা হবে। এতে পরীক্ষার্থীদের কোন সমস্যা হবেনা। উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই। দ্বায়িত্বে গাফিলতির কারনে কেন্দ্র সচিব এবং ট্যাগ অফিসারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে সুপারিশ করা হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট সব কেন্দ্রর সচিব ট্যাগ অফিসারদের সতর্কতা অবলম্বনে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য (০)