• সমগ্র বাংলা

নামেই ‘মডেল’, বাস্তবে জরাজীর্ণ: বকশীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেহাল দশা

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌর শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত শতবর্ষী বিদ্যাপীঠ ‘বকশীগঞ্জ ঐতিহ্যবাহী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’। ১৯২৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি নামে ‘মডেল’ তকমা নিয়ে চললেও বাস্তবে এর চিত্র একেবারেই উল্টো। অবকাঠামোগত জরাজীর্ণতা, তীব্র শ্রেণিকক্ষ সংকট এবং শিক্ষক স্বল্পতায় বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম এখন খাদের কিনারায় এসে দাঁড়িয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ৩৭০ জন শিক্ষার্থীর এই বিদ্যালয়ে ২০০৯ সালে একটি দ্বিতল ভবন নির্মিত হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। ফলে বাধ্য হয়ে দীর্ঘ কয়েক বছর আগে ‘পরিত্যক্ত’ ঘোষিত পুরোনো টিনশেড হাফ-বিল্ডিংয়েই চলছে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান। দেওয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে, আর সামান্য বৃষ্টি হলেই টিনের চাল চুইয়ে পানি পড়ে সয়লাব হয় শ্রেণিকক্ষ। ঝড়-তুফানের সময় চাল ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার ভয়ে অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করে দিয়েছে।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মনির আক্ষেপ করে বলে, “আমাদের ক্লাসরুমে বসার জায়গা নেই। ভাঙা বেঞ্চে গাদাগাদি করে বসতে হয়। বৃষ্টি শুরু হলে বই-খাতা ভিজে যায়। আমরা সবসময় ভয়ে থাকি, কখন মাথার ওপর চাল ভেঙে পড়ে।”

অভিভাবকদের মাঝেও বিরাজ করছে চরম অসন্তোষ। রফিক মিয়া নামের এক অভিভাবক বলেন, মডেল স্কুল মানে তো হওয়ার কথা ছিল এলাকার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ। কিন্তু এখানে স্যানিটেশন থেকে শুরু করে নিরাপত্তা সবকিছুরই করুণ দশা। সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে আমরা দুশ্চিন্তায় থাকি।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩১ আগস্ট ২০২৫ থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন মর্জিনা চৌধুরী। তিনি জানান, বিদ্যালয়ের অবকাঠামো, ওয়াসরুম ও সীমানা প্রাচীর এখন ধ্বংসপ্রায়। স্কুলের পেছনের বড় গাছগুলোও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তিনি বলেন, “পরিত্যক্ত চারটি কক্ষে কোনোমতে শিক্ষার্থীদের বসাচ্ছি। নতুন ভবনের জন্য বারবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।”

এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু হাসান মোঃ রেজাউল করিম আশার কথা শুনিয়েছেন। তিনি বলেন, বিদ্যালয়টির সমস্যার কথা আমরা জানি। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য অধিদফতরে আবেদন করা হয়েছে। খুব দ্রুতই এখানে একটি ছয়তলা ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়িত না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। শতবর্ষী এই স্কুলের হারানো ঐতিহ্য ফেরাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি এলাকাবাসীর।

মন্তব্য (০)





image

এসিল্যান্ডের ফেসবুক পোস্ট, ‘‎আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’

১

নিউজ ডেস্ক : ‎‎সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে ভূমি অফিস...

image

কক্সবাজার 'সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র' পরিদর্শন করেছে...

২

কক্সবাজার প্রতিনিধি : কক্সবাজার সমন্বিত শিশু পুনর্বাসন কেন্দ...

image

ঠাকুরগাঁওকে বাঁচাতে দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে হবে: গোলাম প...

৩

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ক্ষুদ্রঋণ এবং ইমাম-খতিব...

image

লংমার্চে যশোরে দেড় লক্ষাধিক লোক সমাগম হবে: এমপি গোলাম রসুল

৪

যশোর প্রতিনিধি:  যশোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল এমপি ব...

image

নড়াইল পৌরসভায় নিজস্ব অর্থায়নে এক কিলোমিটার ড্রেন নির্মাণ,...

৫

নড়াইল প্রতিনিধি: নড়াইল পৌরসভার ভওয়াখালী জমাদ্দার পাড়ায় দীর্ঘ...

  • company_logo