• লিড নিউজ
  • অর্থনীতি

পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে নীতি সহায়তার আহ্বান বিজিএমইএ’র ‎

  • Lead News
  • অর্থনীতি

ছবিঃ সংগৃহীত

নিউজ ডেস্কঃ দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ধরে রাখতে সরকারের নীতি সহায়তা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।

‎বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আহ্বান জানায়।

‎বৈঠকে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৈরি পোশাক শিল্পের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ এবং খাতটির টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। 
‎বিজিএমইএ’র এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

‎বৈঠকে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির অস্থিরতা, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দেশে গ্যাস-বিদ্যুতের তীব্র সংকটের কারণে পোশাক শিল্পের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একইসঙ্গে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি শিল্পের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও কার্যকর নীতি সহায়তা জরুরি।

‎বৈঠকে আরএমজি সাসটেইনেবল কাউন্সিল (আরএসসি)-এর কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়।

‎বিজিএমইএ সভাপতি জানান, আরএসসি মূলত ভবন, অগ্নি ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা (ওএসএইচ) তদারকির জন্য গঠিত। বেতন, ছুটি বা ট্রেড ইউনিয়নের মতো সামাজিক কমপ্লায়েন্স বিষয়গুলো এর আওতার বাইরে থাকা উচিত। এ ধরনের দায়িত্ব আরএসসির ওপর আরোপ করলে শিল্পে অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও আর্থিক চাপ তৈরি হবে।

‎বিজিএমইএ সভাপতি স্পষ্ট করে বলেন যে, এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই মালিকপক্ষ ও স্থানীয় আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা নিশ্চিত করতে হবে।

‎বিজিএমইএ নেতারা শিল্পের টেকসই অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে কয়েকটি প্রস্তাব তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে: আমদানি ও বন্ড নীতি সহজীকরণ, এফওসি ভিত্তিতে কাঁচামাল আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করা, বন্ডেড ও নন-বন্ডেড প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পণ্য সরবরাহে বিধিনিষেধ শিথিল করা এবং সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ দ্রুত সংশোধন।

‎এ ছাড়া রপ্তানি প্রণোদনার ওপর ১০ শতাংশ আয়কর কর্তন প্রত্যাহার, ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করা এবং স্থলবন্দর দিয়ে সুতা আমদানি ও পণ্য রপ্তানিতে প্রতিবন্ধকতা দূর করার আহ্বান জানানো হয়।

‎বিজিএমইএ আরও প্রস্তাব করে, তৈরি পোশাক রপ্তানি বাণিজ্য সহজীকরণে ‘আমদানি নীতি ২০২৪-২০২৭’-এর সংশ্লিষ্ট অংশ সংশোধন এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের সিআইপি মর্যাদা নির্ধারণ প্রক্রিয়া স্বয়ংক্রিয় করা।

‎বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বিজিএমইএ’র উত্থাপিত বিষয়গুলো গুরুত্বসহকারে শোনেন এবং দেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী এ খাতের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে পোশাক শিল্পের সংকট নিরসন ও আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে সরকার প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা প্রদান করবে।

‎বৈঠকে বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী এবং পরিচালক মো. হাসিব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য (০)





  • company_logo