• স্বাস্থ্য

সমঝোতার আহবানে মিলেনি সাড়া, দিনাজপুর মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অব্যাহত

  • স্বাস্থ্য

ছবিঃ সিএনআই

দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আকস্মিক ভাবে শুরু ইন্টার্ণ চিকিৎসকদের কর্মবিরতি অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সমঝোতা সভায় ( সাড়া দেয়নি) বসেনি তারা। নিরাপত্তার নিশ্চয়তা ছাড়া কাজে যোগ দিতে অনিহা প্রকাশ করেছে তারা।

হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ ফজলুর রহমান জানান, কর্ম বিরতি আবসানের আশায় আজ দুপুর ১২টায় হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধানসহ চিকিৎসক ইন্টার্ণ চিকিৎসক আহবান করেছিলেন তিনি। বৈঠক প্রশাসনের প্রতিনিধি কোতয়ালী থানার ইনচার্জ এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক বিএনপির জেলা কমিটির সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন দুলালসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। তবে  আলোচনার টেবিলে সাড়া দেননি কর্মবিরতিতে থাকা আন্দোলনরত ২০০শত ইন্টার্ণ চিকিৎসকের কেউ। আগে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা চাইছে তারা।

কর্মবিরতির অবস্হা না ঘটিয়ে কাজে না ফেয়ায়  অতিরিক্ত সময় দ্বায়িত্ব পালন করে রোগীকে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন সরকারি চাকুরীজীবি চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা।

গতকাল রবিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কার্ডিয়ার্ক ওয়ার্ডের সিসিইউ ইউনিটে একজন রোগীর মৃত্যুকে ঘিরে হামলা হৈচৈসহ  চিকিৎসককে লাঞ্ছনার প্রতিবাদে রাত ৩টার দিকে হাসপাতালের জরুরী বিভাগের প্রবেশ পথে তালা ঝুলিয়ে আকস্মিক ধর্মঘট শুরু করেছে ইন্টার্ণ চিকিৎসকরা। ফলে  আগত রোগীরা সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত ভর্তি অথবা চিকিৎসা সেবা নিতে পারেনি জরুরী বিভাগে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে , রাত সাড়ে ১২টার দিকে শহরের রামনগর মহল্লা থেকে হার্ট এ্যাটাকে আক্রান্ত আব্দুস সামাদ নামে ৬৫ বছর একজন রোগীকে গুরুত্বর অবস্হায় জরুরী বিভাগের মাধ্যমে ভর্তি তাকে কার্ডিয়ার্ক ওয়ার্ডের সিসিইউ ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল। চিকিৎসা চলার  ঘন্টা খানেকের মধ্যে রাত দেড়টার দিকে ওই রোগী মারা যায়। এসময় রোগীর স্বজনরা মেডিকেল অফিসার ডাঃ আব্দুল্লা আল মুইনকে লাঞ্ছিত করেন। স্বজনদের অশ্লীল ভাষায় গালাগালিসহ হৈচৈ কারনে চিকিৎসা ব্যহত হয়েছে ওয়ার্ডের অন্যান্য রোগীদের। রাত সাড়ে ৩টায় স্বজনরা লাশ নিয়ে যাওয়ার পর পরিস্হিতি কিছুটা শান্ত হয়। তবে ইন্টার্ণ চিকিৎসকরা জরুরী বিভাগের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ায় রোগী ভর্তিসহ চিকিৎসা কার্যক্রম চলতে পারেনি।   আজ সকাল সাড় ৯টায়  গেটে তালা ভেঙ্গে নতুন রোগী ভর্তিসহ চিকিৎসা শুরু হয়েছে। হাসপাতালে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। চিকিৎসককে লাঞ্ছনার ঘটনায় ইয়াকুব আলী নামে রোগীর একজন স্বজনকে আটক করেছে কোতয়ালী থানা পুলিশ। 

কোতয়ালী থানার ইনচার্জ মোহাম্মদ নুর নবী জানান, আটক ইয়াকুব আলীর বিরুদ্ধে কেউ কোন মামলা দেননি। শ্যালক আব্দুস সামাদের জানাজার নামাজে অংশ গ্রহনের সুবিধার্থে তাকে স্বজনদের হেফাজতে দেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা হলে তাকে হাজির করতে সম্মত আছেন হেফাজতে নেওয়া স্বজন।

মন্তব্য (০)





  • company_logo