• লিড নিউজ
  • জাতীয়

আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়, সহপাঠীদের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

  • Lead News
  • জাতীয়

ছবিঃ সিএনআই

রংপুর ব্যুরোঃ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার বহুল আলোচিত রায় ঘোষণা করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য ছিলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।এছাড়া অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।মামলায় মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে ছয়জন গ্রেপ্তার রয়েছেন, বাকিরা পলাতক।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- রংপুরের পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনেই বর্তমানে গ্রেপ্তার অবস্থায় রয়েছেন।

অন্যদিকে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম এবং সাবেক উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়। এ তিনজনই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মামলার বাকি আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হলেও তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক এখনো পলাতক।এই মামলার আসামিদের মধ্যে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সদস্য রয়েছেন।

গ্রেপ্তারকৃত ছয়জন আসামি হলেন-বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, এএসআই আমির হোসেন, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ। রায় ঘোষণার সময় তাদের ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত করা হয়।

মামলার পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং পুলিশের উচ্চপদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তা।এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মীও পলাতক রয়েছেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ এ মামলার আসামি মোট ৩০ জন। এর মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার আছেন।তারা হলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো.আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ। তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ এ মামলার ২৪ আসামি পলাতক আছেন।পলাতক আসামির মধ্যে রয়েছেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমান, সাবেক সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল, সাবেক এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন, সাবেক নিরাপত্তা প্রহরী নুর আলম মিয়া এবং সাবেক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. মাহাবুবার রহমান।
রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) সাবেক কমিশনার মো.মনিরুজ্জামান, আরপিএমপির সাবেক উপকমিশনার মো. আবু মারুফ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. শাহ নূর আলম পাটোয়ারী, সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়ও পলাতক রয়েছেন।
আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি চিকিৎসক মো. সরোয়ার হোসেনও (চন্দন) পলাতক।এ ছাড়া রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাফুজুর রহমান, সহসভাপতি মো. ফজলে রাব্বি, সহসভাপতি মো. আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার, দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদুল হাসান এ মামলার পলাতক আসামি।

মামলার তদন্ত শেষে গত বছরের ২৪ জুন ৩০ জনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পরবর্তীতে ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে ট্রাইব্যুনাল। ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয় এবং ২৭ জানুয়ারি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ ছিল।রায় ঘোষণার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ রায়কে ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

তবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ রায় নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আবু সাঈদের সহপাঠী আরমান বলেন, “আমরা এই রায়ে সন্তুষ্ট নই। আমরা যে প্রত্যাশা করেছিলাম, সেই অনুযায়ী রায় হয়নি।”

আরেক সহপাঠী শামসুর রহমান সুমন বলেন, “এই রায় বিতর্কিত। আমরা আরও কঠোর শাস্তি প্রত্যাশা করেছিলাম। হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

রায় ঘোষণার পর ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। কেউ এটিকে ন্যায়বিচারের সূচনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ মনে করছেন-এখনো পূর্ণ বিচার নিশ্চিত হয়নি।

আইন বিশ্লেষকরা বলছেন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং রায় কার্যকর করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।একই সঙ্গে এই রায় ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তারা মনে করছেন।

আলোচিত এ মামলার রায় দেশের বিচার ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে ভুক্তভোগী পরিবার ও সহপাঠীদের প্রত্যাশা-সব আসামিকে আইনের আওতায় এনে দ্রুত রায় কার্যকর করা হোক, যাতে প্রকৃত অর্থে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, “আমরা চাই আবু সাঈদের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হোক। দেশবাসী এই রায়ের দিকে তাকিয়ে ছিল। এই রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। তার মৃত্যুর ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয় এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে এ মামলা দায়ের করা হয়।

মন্তব্য (০)





image

আগামী ২ মাস পেট্রোল-অকটনের সংকট হবে না: জ্বালানি বিভাগের...

নিউজ ডেস্কঃ আগামী ২ মাস অন্তত পেট্রোল ও অকটনের সংকট হবে না ...

image

‎এই সরকারের ৪২ দিনে কেউ গুম-ক্রসফায়ারের শিকার হয়নি: আইনমন...

নিউজ ডেস্কঃ বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার ৪২ দিনে দেশে...

image

‎এই সরকারের ৪২ দিনে কেউ গুম-ক্রসফায়ারের শিকার হয়নি: আইনমন...

নিউজ ডেস্কঃ বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার ৪২ দিনে দেশে...

image

ঢাকায় ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপে তেল বিক্রি শুরু

নিউজ ডেস্কঃ গ্রাহক পর্যায়ে জ্বালানি তেল সরবরাহে শৃঙ্খলা...

image

এই রায়ে আমি সন্তুষ্ট নই, আরও অনেকের ফাঁসি হওয়া উচিত ছিল: ...

নিউজ ডেস্কঃ জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে...

  • company_logo