নিউজ ডেস্ক : নিয়মিত বেতন ভাতা পরিশোধে ব্যর্থতার কারণে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানে চলমান শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে বেতন ভাতা পরিশোধের জন্য উদ্যোক্তাদের বিশেষ ঋণ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার একটি সার্কুলার জারি করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সার্কুলারে বলা হয়েছে, সচল রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুকূলে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে তাদের সচল রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানের গ্রাহকদের বিশেষ ঋণ সুবিধা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ তাদের শ্রমিক-কর্মচারীদের তিন মাসের বেতনভাতার পরিশোধের সমপরিমাণ ঋণ দেওয়া যাবে। ঋণ পরিশোধের জন্য তিন মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ এক বছরের মধ্যে তা করতে হবে। ঋণের বিপরীতে বাজারভিত্তিক সুদহার প্রয়োজ্য হবে। বেতনের অর্থ ব্যাংক সরাসরি শ্রমিকদের ব্যাংক হিসাবে পাঠাবে। উদ্যোক্তাদের সরাসরি ঋণের অর্থ দেওয়া হবে না।
এর আগে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির একটি প্রতিনিধি দল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের সঙ্গে দেখা করে আসন্ন ঈদের আগে শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধের জন্য বিশেষ ঋণ সুবিধা চেয়েছে। কেননা অনেক তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকরা তাদের বেতন ভাতার দাবিতে আন্দোলন করছেন। ফলে শ্রমিক অসন্তোষ বেড়েছে। এ কারণে ঈদের আগে রপ্তানিকারকদের এ ঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।
সার্কুলারে বলা হয়, সচল রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমিক কর্মচারীদের গত ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য চলতি মূলধন ঋণসীমার বাইরে প্রযোজ্যতা অনুসারে গ্রাহকের সক্ষমতা বিশ্লেষণপূর্বক মেয়াদি ঋণ সুবিধা দেওয়া যেতে পারে। উক্ত ঋণ সুবিধার পরিমাণ ঋণগ্রহীতা শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিগত তিন মাসের প্রদত্ত গড় বেতন ভাতার বেশি হবে না। ঋণের বিপরীতে বাজারভিত্তিক প্রচলিত সুদহার প্রযোজ্য হবে। তফশিলি ব্যাংকগুলো সংশ্লিষ্ট শ্রমিক কর্মচারীর ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে সরাসরি ফেব্রুয়ারি মাসের বেতন-ভাতার অর্থ দেবে। ঋণের অর্থ ‘মেয়াদি ঋণ’ আকারে ৩ মাসের গ্রেস পিরিয়ডসহ সর্বোচ্চ ১ বছরে সমকিস্তিতে মাসিক বা ত্রমাসিক ভিত্তি আদায় করতে হবে।
এতে আরও বলা হয়, যেসব শিল্প প্রতিষ্ঠান মোট উৎপাদনের ন্যূনতম ৮০ শতাংশ রপ্তানি করে তারা রপ্তানিমুখী শিল্প এবং যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের শ্রমিক কর্মচারীদের বিগত নভেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসের বেতন পরিশোধ করেছে তারা সচল হিসেবে বিবেচিত হবে। সচল ও রপ্তানিমুখী হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিত্বকারী বাণিজ্য সংগঠনের (বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ইত্যাদি) প্রত্যয়নপত্র দ্বারা সমর্থিত হতে হবে।
এ ধরনের ঋণের ওপর নিয়মিত সুদ ব্যতীত অন্য কোনো প্রকার অতিরিক্ত সুদ বা মুনাফা বা ফি কিংম্বা চার্জ (যে নামেই অভিহিত করা হোক না কেন) আদায় বা আরোপ করা যাবে না।
সার্কুলারে উদ্যোক্তাদের এ বিশেষ ঋণ সুবিধা দেওয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলা হয়, বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যবসায়িক পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি ধারাবাহিক নিন্মমুখী রপ্তানি আয়, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া, তারল্য সংকট ইত্যাদি কারণে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে উক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ভাতা পরিশোধের সক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে। এ কারণে উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রেখে রপ্তানির গতিধারা অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে অর্থায়ন সহায়তা দেওয়ার আবশ্যকতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে সচল রপ্তানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর শ্রমিক কর্মচারীদের বেতন ভাতা যথাসময়ে পরিশোধের মাধ্যমে রপ্তানি সক্ষমতা ও দেশের আর্থিক প্রবৃদ্ধি অক্ষুন্ন রাখার লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মন্তব্য (০)