• শিক্ষা

বগুড়ায় শিবগঞ্জে পদার্থবিজ্ঞান মেলা: জটিল সূত্র হাতকলমে দেখাচ্ছে শিক্ষার্থীরা

  • শিক্ষা

ছবিঃ সিএনআই

বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়া শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে শিবগঞ্জ উপজেলার দাড়িদহ হাইস্কুল মাঠ। চারপাশে খোলা মাঠ আর গ্রামীণ পরিবেশের মাঝেই তার, কয়েল, ব্যাটারি, মিটার আর সার্কিট বোর্ডে সাজানো ২৬টি স্টল। চতুর্থবারের মতো এখানে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী পদার্থবিজ্ঞান মেলা। ট্যালেন্ট হান্ট বিডি এবং স্বর্ণগ্রাম ফাউন্ডেশনের আয়োজনে রবিবার থেকে শুরু হওয়া এই মেলা সোমবার পুরস্কার বিতরণের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। লক্ষ্য একটাই-মুখস্ত নয়, হাতে–কলমে বিজ্ঞান শেখা।
স্থানীয় পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির ১৫০ জন শিক্ষার্থী চারটি ক্যাটাগরিতে অংশ নিয়েছে। পাঁচ শতাধিক ডিভাইসের মাধ্যমে তারা দেখাচ্ছে বইয়ের সূত্র কীভাবে বাস্তবে কাজ করে। কোথাও সলিনয়েডে তড়িৎ প্রবাহিত করে চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক নির্ণয় করা হচ্ছে, কোথাও এসি জেনারেটরের মডেল ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া বোঝানো হচ্ছে। ট্রান্সফর্মার, তড়িৎবাহী চৌম্বক আবেশ, রেকটিফিকেশনসহ নানা তত্ত্ব সরাসরি প্রদর্শন করা হচ্ছে শিক্ষার্থীদের উপস্থাপনায়।
হুকের সূত্র, বেগ ও ত্বরণ নির্ণয়, আর্কিমিডিসের সূত্র, প্যাসকেলের সূত্র, ওহমের সূত্র ও রোধের সূত্রের সত্যতা যাচাই- প্রতিটি স্টলে একটি নির্দিষ্ট সূত্রকে ডিভাইসের মাধ্যমে প্রমাণ করে দেখানো হচ্ছে। কোনো স্টলে সার্কিট বসিয়ে ভোল্টেজ ও কারেন্ট মেপে ওহমের সূত্র মিলিয়ে দেখা হচ্ছে, আবার অন্য স্টলে পানিভর্তি পাত্রে বস্তু ডুবিয়ে ভাসমানতার হিসাব করা হচ্ছে। তত্ত্বনির্ভর শিক্ষাকে ব্যবহারিক ডিভাইসের মাধ্যমে বোধগম্য করে তোলাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
যে পদার্থবিজ্ঞানকে অনেকেই কঠিন ও রসকষহীন মনে করে, সেই বিষয়টিই এখানে কৌতূহলের কেন্দ্রে। শিক্ষার্থীরা বলছে, আগে সমীকরণ মুখস্ত করতাম, এখন নিজেরাই পরীক্ষা করে মিলিয়ে দেখছি। অভিভাবক ও দর্শনার্থীরাও আগ্রহ নিয়ে স্টল ঘুরে দেখছেন।
এই উদ্যোগের নেপথ্যে আছেন কুপা গ্রামের শিক্ষক তবিবর রহমানের ছেলে বিজ্ঞান পাগল মানুষ ফরিদুল ইসলাম। এইচএসসি পাস করে পেশায় ব্যবসায়ী হলেও কিশোর বয়স থেকেই বিজ্ঞানের প্রতি তার টান। প্রায় ২৪ থেকে ২৫ বছর ধরে তড়িৎ চুম্বক নিয়ে গবেষণা করছেন তিনি। ২০০০ সালে নিজ বাড়িতেই একটি ল্যাব প্রতিষ্ঠা করে বিনামূল্যে পদার্থবিজ্ঞান শেখানো শুরু করেন। পরে নিজস্ব অর্থায়নে গড়ে তোলেন ‘ইজি ইনডাকশন ল্যাব’। ২০২৩ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এই মেলার আয়োজন করছেন তিনি। ইতোমধ্যে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী তার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছে।
ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমরা শুধু তাত্ত্বিক পড়াশোনায় আটকে থাকি। কিন্তু ব্যবহারিক কাজ ছাড়া প্রকৃত শিক্ষা হয় না। শিক্ষার্থীরা যেন বিজ্ঞানকে কঠিন মনে না করে এবং মুখস্ত বিদ্যা থেকে সরে এসে বাস্তব জ্ঞান অর্জন করে—এই লক্ষ্য নিয়েই তার কাজ। তিনি জানান, আগামীকাল সোমবার পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে মেলার সমাপ্তি হবে।
মেলা ঘুরে দেখেছেন প্রধান অতিথি বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপাচার্য প্রফেসর ড. কুদরত-ই জাহান। তিনি বলেন, গ্রামে বসে শিক্ষার্থীরা নিজের হাতে সূত্র প্রমাণ করছে। এটি অত্যন্ত ইতিবাচক উদ্যোগ। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের বিশ্লেষণী দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং ব্যবহারিক বিজ্ঞানচর্চা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দুই দিনের এই আয়োজন আসলে বিভিন্ন সূত্রের প্রমাণের এক অনন্য প্রদর্শনী। গ্রামবাংলার এক মাঠে দাঁড়িয়ে যখন ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী চৌম্বক ক্ষেত্রের দিক বোঝায়, তখন স্পষ্ট হয় বিজ্ঞান কঠিন নয়, সঠিকভাবে ছুঁয়ে দেখার সুযোগটাই আসল।

মন্তব্য (০)





image

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবে খুলবে, জানা গেল

নিউজ ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১...

image

ঢাবিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ

নিউজ ডেস্ক : মুন্সীগঞ্জে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থককে হত্যাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি কর্ম...

image

ঢাবিতে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদ বিক্ষোভ

নিউজ ডেস্ক : মুন্সীগঞ্জে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থককে হত্যাস...

image

ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলকে স্পষ্ট বার্তা দিলেন সাদিক কায়েম

নিউজ ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন...

image

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কবে খুলবে, জানা গেল

নিউজ ডেস্ক : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব...

  • company_logo