• সমগ্র বাংলা

জামালপুর-১ আসনে হলফ নামায় প্রার্থীদের সম্পদের বিবরণ

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুর জেলায় জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যা ৫টি। ৫টি আসনের মধ্যে দেওয়ানগঞ্জ ও বকশীগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত জামালপুর-১ আসন। মোট ভোটর সংখ্যা ৪ লাখ ১ হাজার ৪৯৯ জন। ২০২৬ এর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির হ্যাভিয়েট প্রার্থী কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মাওলানা নাজমুল হক সাঈদী ও চার বারের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বিএনপির সাবেক সভাপতি নব্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে যোগদানকারী আব্দুর রউফ তালুকদার।

এ আসনে বিএনপির হ্যাভিয়েট প্রার্থী বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি এ আসনের সাবেক এমপি। হলফ নামায় নামায় দেখা যায় দুর্নীতি দমন কমিশন সহ তার নামে মোট মামলা ছিলো ৫টি। এর মধ্যে দুদকের মামলায় খালাস পান ২০১৬ সালে। দেওয়ানগঞ্জ থানায় একটি মামলা খালাস পান ২০২২ সালে। বাকী ৩টি মামলা থেকে খালাস পান ২০২৪ সালে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিচারাধীন কোন মামলা নেই। তার পরিবারের সদস্যরাও মামলা মুক্ত।
সাবেক এমপি এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের বর্তমান বয়স ৬৪ বছর। তার আয়ের উৎস ৫টি, কৃষি, বাড়ী ভাড়া, ব্যবসা, শেয়ার ও চাকুরি। কৃষিখাত থেকে এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাতের বার্ষিক আয় হয় ৩৭ লাখ ৬৩ হাজার ৮৮০ টাকা, একই খাত থেকে পরিবারের নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৫১ হাজার ৩৬০ টাকা। বাড়ী ভাড়া থেকে তিনি নিজে বার্ষিক আয় করেন ৮ লাখ ৯৯ হাজার ৭৮১ টাকা। ব্যবসা থেকে আয় করেন ৭৪ লাখ ৯১ হাজার ৮৪৫ টাকা, শেযার থেকে আয় ২৬ লাখ ৭ হাজার, ৯৬২ টাকা। এ খাত থেকে পরিবারের নির্ভরশীলদের বার্ষিক আয় ৮৯ টাকা।

সাবেক এমপি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের অস্থাবর সম্পদ রয়েছে নিজের নগদ অর্থ আছে ১ কোটি ৯১ লাখ ৭৮ হাজার ৫০১ টাকা। তার স্ত্রীর নামে নগদ টাকা আছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৫২৮ টাকা। ব্যাংকে জমা আছে ১৮ লাখ ৩৫ হাজার ৩২৭ টাকা। স্ত্রীর নামে ব্যাংকে জমা আছে ৯৪ হাজার ৭৮০ টাকা।
শেয়ার আছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ১০০টি। যার মূল্য ২ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। নিজ নামে সঞ্চয়পত্র আছে ৩ কোটি ১১ লাখ ৩২ হাজার ৭৭৬ টাকা। স্ত্রীর নামে সঞ্চয়পত্র আছে ৯০ লাখ টাকা। ২৫ লাখ ৭০ হাজার ৯৪৩ টাকা মূল্যের ১টি জীপ গাড়ী রয়েছে। তার নিজের নামে সোনা রয়েছে ১০৫ ভরি। যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৩ লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ৫০ তোলা সোনা। যার মোট দাম দেখানো হয়েছে ১ লাখ টাকা। ইলেকট্রনিক পন্য নিজ নামে ১০ লাখ টাকার সমপরিমান এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে ৫০ হাজার টাকার সমপরিমান ইলেট্রনিক সামগ্রী। নিজের নামে ঘরের আসবাবপত্র রয়েছে ৯ লাখ টাকার সমপরমান। স্ত্রীর নামে দেখানো হয়েছে ৫০ হাজার টাকার সমপরিমান আসবাবপত্র। ৩ লাখ ৫০ হাজার ৩৫০ টাকা মূল্যের একটি পিস্তল রয়েছে।

মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন পর্যন্ত সাবেক এমপি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের মোট সম্পদের পরিমান ৭ কোটি ৯১ লাখ ৭ হাজার ৮৯৭ টাকা। তার স্ত্রীর নামে রয়েছে ৯৮ লাখ ৩০৮ টাকা। তার নিজের নামে কৃষি জমির পরিমান ২১ একরের উপরে। যার মূল্য ২ কোটি ৭৯ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে কৃষি জমির পরিমান ১ একর। মূল্য ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা। ৪০ লাখ টাকার সমপরিমান ৫৫০০ বর্গফুটের একটি বাড়ী আছে। ঢাকায় ফ্লাট বাড়ী আছে ৩টি। যার মূল্য ১ কোটি ৬৭ লাখ ৯০ হাজার টাকা। অন্যান্য সম্পদ রয়েছে ৭২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। মোট অর্জনকারী মূল্য ৫ কোটি ২৯ লাখ ৮ হাজার ৭৭২ টাকা। স্ত্রীর ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা।

সাবেক এমপি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতের ব্যাক্তিগত দেনা ৫ কোটি ৬৭ লাখ ৮৬ হাজার ২৯১ টাকা। স্ত্রীর নামে ব্যাংক লোন আছে ৮৯ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ টাকা। সন্তানের নামে ব্যাক্তিগত ক্রেডিট কার্ড ১১ লাখ ১৮ হাজার টাকা। সন্তানের নামে ব্যাংক ও ক্রেডিট কার্ড রয়েছে ২২ লাখ ৩৬ হাজার ৩৫৪ টাকার সমপরিমান। সিটি ব্যাংক থেকে লোন নিয়েছেন ২ কোটি ৭৪ লাখ ৮৬ হাজার ২৯১ টাকা। পরিবারের নির্ভরশীল ব্যাক্তিদের নামে সিটি ব্যাংকে লোন আছে ৮৯ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ টাকা।

শিক্ষাগত জীবনে সাবেক এমপি এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ঢাকার বেসরকারী উত্তরা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামি স্টাডিজে এমএ পাশ করেছেন। জামালপুর-১ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি পদ প্রার্থী কেন্দ্রীয় কমিটির শূরা সদস্য ও জামালপুর জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা এডভোকেট নাজমুল হক সাঈদী। তার নামে একটি সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা রয়েছে। মামলাটি বর্তমানে চার্জ শুনানীর জন্য রয়েছে। নাজমুল হক সাঈদী বাড়ী ভাড়া থেকে বার্ষিক আয় ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫০০ টাকা। মোটর যান রয়েছে ২০ লাখ ৮০ হাজার ১০৬ টাকার সমপরিমান। তার নিজের নামে সোনার পরিমান ২০ ভরি।

তার বসত ঘরে ইলেকট্রিক সরঞ্জাম রয়েছে ৬০ হাজার টাকার সমপরিমান। জমি আছে ২ একর। অকৃষি জমি রয়েছে নিজ নামে ৪ শতাংশ, স্ত্রীর নামে ৫৪ শতাংশ ও পরিবারের নির্ভশীলদের নামে রয়েছে ৬ শতাংশ। ৪২ লাখ টাকার সমপরিমান মূল্যের একটি বাড়ী আছে। তিনি একজন আইনজীবি। তার পেশা থেকে বার্ষিক আয় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। তার নিজ নামে নগদ অর্থ আছে ৩৫ লাখ ১৭ হাজার ৮০৩ টাকা। যানবাহন খাতে আছে ২০ লাখ ৮০ হাজার ১০৬ টাকা।

সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ তালুকদার ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী। তার নামে বিজ্ঞ আমলী আদালত জামালপুরে ১টি মামলা ছিলো। তিনি বেকসুর খালাস পেয়েছেন ১৯৯৭ সালে। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে কোন মামলা নেই। কৃষিখাত, বাড়ীভাড়া, ব্যবসা, শেয়ার ও পেশাখাতে তার বার্ষিক কোন আয় নেই। তবে অন্যান্য উৎস থেকে তার বার্ষিক আয় ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। তার দুই কন্যার চাকুরি থেকে বার্ষিক আয় ৩০ লাখ টাকা। আব্দুর রউফ তালুকদারের নিজ নামে নগদ টাকা আছে ১৬ লাখ ২১ হাজার ৮৭৩ টাকা। স্ত্রীর নামে নগদ টাকা আছে ২ লাখ।

তার নামে কৃষি জমি রয়েছে ৫০.০৪ শতাংশ, অকৃষি জমি রয়েছে ১০ শতাংশ। ২৫০০ বর্গ ফুটের একটি বাড়ী আছে। যার মূল্য ৫০ লাখ টাকা। তার ব্যবসা, শেয়ার ও পেশা থেকে কোন আয় নেই। তবে চাকুরি থেকে তার দুই কন্যার বার্ষিক আয় ৩০ লাখ টাকা। তার নামে নগদ টাকা আছে ১৬ লাখ ২১ হাজার ৮৭৩ টাকা। তার স্ত্রীর নামে আছে ২ লাখ টাকা। তার স্ত্রীর নামে স্বর্ণ রয়েছে ২০ ভরি। তিনি এসএসসি পাশ।

হলফ নামায় প্রদত্ত তথ্যানুযায়ি জামালপুর-১ আসনে সব চেয়ে বেশি সম্পদের মালিক সাবেক এমপি বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সব চেয়ে কম সম্পদের মালিক বকশীগঞ্জ উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী আব্দুর রউফ তালুকদার। মাঝারি অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট নাজমুল হক সাঈদী।

এ আসনে ৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের আবুল কালাম আজাদ ৩৮ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়ে ছিলেন। বিএনপির প্রার্থী আইএএম আব্দুল আজিজ পেয়ে ছিলেন ২৫ হাজার ৫৬৭ ভোট। জামায়াতের ওসমান গনি পেয়ে ছিলেন ১৮ হাজার ৩৮৫ ভোট। ১৯৯৬ সালে এ আসনে জামায়াত প্রার্থী ওসমান গনি ভোট পেয়েছিলেন ১৩ হাজার ৫৪ ভোট। বিএনপির ময়নুল হক পেয়ে ছিলেন ১৩ হাজার ৫৭৪ ভোট। আওয়ামীলীগের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ৪৬ হাজার ৭২২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়ে ছিলেন। ২০০১ সালে বিএনপির প্রার্থী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ৯৩ হাজার ৯১৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়ে ছিলেন। আওয়ামীলীগের আবুল কালাম আজাদ পেয়ে ছিলেন ৭৩ হাজার ৯৫৯ ভোট। ২০০৮ এর নির্বাচনে আওয়ামীলীগের আবুল কালাম আজাদ ১ লাখ ১৫ হাজার ৭২২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়ে ছিলেন। বিএনপির সাহিদা আক্তার রিতা পেয়ে ছিলেন ৭০ হাজার ৮৮০ ভোট।

১১টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-১ আসনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ প্রার্থী মোহাম্মদ আলমাস হোসেন ১৯৭৯ সালে, আব্দুস সাত্তার স্বতন্ত্র ১৯৮৬ সালে, আব্দুস সাত্তার ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টি, ১৯৯১ সালে আওয়ামীলীগের আবুল কালাম আজাদ, ১৯৯৬ সালে বিএনপির একেএম মায়নুল হক, ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগের আবুল কালাম আজাদ, ২০০১ সালে বিএনপির এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগের আবুল কালাম আজাদ, ২০১৪ সালে আওয়ামীলীগের আবুল কালাম আজাদ, ২০১৮ সালে আওয়ামীলীগের আবুল কালাম আজাদ ও ২০২৪ সালে আওয়ামীলীগের নূর মোহাম্মদ এমপি নির্বাচিত হন।

মন্তব্য (০)





image

অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের গুলিতে র‌্যাব কর্মকর্তা নিহত

নিউজ ডেস্ক : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরের ছিন্নমূল এলাকায় অভি...

image

জামালপুরে এবি পার্টি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দিলেন এমপি প্রার্থ...

জামালপুর প্রতিনিধি : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেছে...

image

নড়াইলে সদর থানার ‘ওপেন হাউজ ডে’ অনুষ্ঠিত মাদক ও সন্ত্রাস ...

নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ...

image

সরিষাবাড়ীতে ওয়ার্ড বিএনপি ও যুবদল নেতাকে বহিষ্কার

জামালপুর প্রতিনিধি : জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলায় দলীয় ...

image

বগুড়া চেলোপাড়ায় জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীতে দোয়া মাহফ...

বগুড়া প্রতিনিধি : শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০ তম...

  • company_logo