নিউজ ডেস্কঃ আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, বর্তমান সংবিধান ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী রাজনৈতিক নেতৃত্ব দিয়ে বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন সম্ভব নয়। রাষ্ট্র মেরামতের জন্য নতুন করে একটি সনদ তৈরি করতে হবে। সেই সনদে চার কোটি মানুষের স্বাক্ষর নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আয়োজিত ‘বছর পেরিয়ে জুলাই সনদ: গণ-অভ্যুত্থানের তরুণ অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়’ শীর্ষক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, অদক্ষতা ও অনভিজ্ঞতার কারণে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সরকারকে উপহাস করে ‘এনজিওগ্রাম সরকার’ বলা হতো। একইভাবে অব্যবস্থাপনা ও অযোগ্যতার কারণে বর্তমান সরকারকে অনেকে ‘লন্ডনী-গো সরকার’ বলে অভিহিত করছেন।
মঞ্জু আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধে গণ-অভ্যুত্থানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রয়োজনীয়তার কথা ড. মাহমুদুর রহমান অনেক আগেই বলেছিলেন। গণ-অভ্যুত্থান কিংবা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সব সমস্যার সমাধান হয়নি; বরং সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। তার দাবি, সীমান্তের ওপারে থাকা ফ্যাসিবাদী শক্তি এ পরিস্থিতিতে উল্লসিত হচ্ছে।
এবি যুব পার্টির সদস্যসচিব হাদীউজ্জামান খোকন সভা সঞ্চালনা করেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম এবং দৈনিক ওয়াদা-এর সম্পাদক ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম। স্বাগত বক্তব্য দেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান।
বিশেষ অতিথি অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর তরুণদের বলা হচ্ছে, বিপ্লবের কাজ শেষ, এখন রাষ্ট্র নিয়ে না ভেবে পড়ার টেবিলে ফিরে যেতে হবে। কোনো কোনো রাজনীতিবিদ বিপ্লবীদের ‘ফার্মের মুরগি’ বলেও তুলনা করছেন। তরুণদের অবদানকে যারা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন, তারা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেননি।
তিনি বলেন, ১৭ বছর ধরে যে স্বৈরশাসনের অবসান ঘটানো সম্ভব হয়নি, তরুণেরা তা সম্ভব করেছেন। তার ভাষায়, লক্ষ্মণ সেনের মতো দুপুরের খাবার ফেলে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিল ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠী।
জুলাই সনদের গুরুত্ব তুলে ধরে তাজুল ইসলাম বলেন, প্রচলিত সংবিধান ও আইনি কাঠামোর মাপকাঠিতে জুলাই বিপ্লব সংঘটিত হয়নি; এটি ছিল আইনি সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে জনগণের অভ্যুত্থান। এখন বিভিন্ন পক্ষ ভাড়াটে লোক দিয়ে নানা ধরনের বয়ান তৈরির চেষ্টা করছে। আইন ও সংবিধানের দোহাই দিয়ে জুলাই সনদ অমান্য করা যাবে না। তার ভাষায়, জুলাই সনদই আমাদের ‘রেড লাইন’।
মতবিনিময় সভায় আরও বক্তব্য দেন তারুণ্যের জুলাই ফাউন্ডেশনের নেতা সাগর উদ্দিন, পুসাবের সংগঠক তালহা বিন আমীন, জুলাই ঐক্যের নেতা রিয়াদুস ইসলাম জুবা, জুলাই যোদ্ধা লাবিব, স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের সংগঠক সাইয়েদ আহমেদ সরকার, শহীদ সোহেল রানার ভাই আলভী নাবিল, জুলাই রেভ্যুলেশন ওয়াচের সংগঠক সানজিদ হাসান তানভীর, বৈষম্যবিরোধী কওমির সদস্যসচিব মাসুদুর রহমান জুনায়েদ, প্রতিবন্ধী নাগরিক পরিষদের সংগঠক ইফতেখার মাহমুদ, জুলাই সংগঠক নেছার উদ্দিন, শহীদ রাকিবের ভাই আমিন উদ্দিন, মঞ্চ ২৪-এর সংগঠক ইশরাত করিম অর্পিতা, দ্য রেড জুলাইয়ের সংগঠক রাসেল মাহমুদ এবং মুস্তাইন বিল্লাহ হাবীবি।
এবি পার্টির জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া ও শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক সম্পাদক গোলাম রব্বানী রাজা, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন এবং খুলনা সাংগঠনিক সম্পাদক ইয়ামিনুর রহমানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
মন্তব্য (০)