• আন্তর্জাতিক

৫০০ হুথি সদস্যকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার দাবি ইয়েমেনের

  • আন্তর্জাতিক

ছবিঃ সংগৃহীত

‎নিউজ ডেস্কঃ  ইয়েমেনে হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ২৭২টি সামরিক অভিযান চালিয়েছে দেশটির সরকারি বাহিনী। এতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের প্রায় ৫০০ যোদ্ধা ও মাঠপর্যায়ের কমান্ডারকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করার দাবি করেছে সেনাবাহিনী। এসব অভিযানে হুথিদের ১৬৯টি সামরিক যান, সরঞ্জাম ও ভারী অস্ত্র ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও জানিয়েছে তারা।

রোববার (১ নভেম্বর) ইয়েমেনের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মাজেদ আল-নুজাইলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানান।

তবে যাদের নিষ্ক্রিয় করার কথা বলা হয়েছে, তাদের মধ্যে কতজন নিহত বা আহত হয়েছেন, তা উল্লেখ করেননি তিনি।

আল-নুজাইলি জানান, ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’-এর অংশ হিসেবে হুথিদের অবস্থান, অতিরিক্ত সেনা ও রসদ সরবরাহের বহর, প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, হামলা চালানোর স্থান এবং সরবরাহপথ লক্ষ্য করে এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, উত্তর ইয়েমেনের আল-জাওফ এলাকায় সরকারি বাহিনীর স্থল অভিযান এগিয়ে নিতে এবং হুথিদের দখলে থাকা কয়েকটি অবস্থান পুনরুদ্ধারে এসব অভিযান সহায়তা করেছে।

সেনাবাহিনীর মুখপাত্র আরও জানান, মারিব, আল-বায়দা, লাহিজ ও তাইজ প্রদেশেও সরকারি বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তাইজ প্রদেশে সরকারি সেনাদের সঙ্গে হুথি বিদ্রোহীদের তীব্র লড়াই চলছে। এ লড়াইয়ে সরকারি বাহিনীকে সহায়তা করছে মিত্র পপুলার রেজিস্ট্যান্স যোদ্ধারা। পাশাপাশি যুদ্ধবিমান, ড্রোন ও কামান ব্যবহার করা হচ্ছে। বেসামরিক মানুষ ও স্থাপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

এর আগে ইয়েমেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, তারা হুথিদের দুটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং তাইজের দক্ষিণাঞ্চলের আল-মিসরাখ জেলায় বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে।

এদিকে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পশ্চিম তাইজে একটি বাড়িতে হুথিদের ড্রোন হামলায় এক নারী ও এক কিশোরী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও এক নারী আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, আল-জাওফে সরকারি বাহিনী শনিবার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হুয়াইশিয়ান পর্বতমালা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে। এলাকাটিকে হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকা প্রাদেশিক রাজধানী আল-হাজমের সামনের প্রতিরক্ষাব্যূহ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

গত ৫ অক্টোবর থেকে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ থেকে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুদ্ধার এবং রাজধানী সানা আবার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে ‘অপারেশন ডন অব ইয়েমেন’ শুরু করে দেশটির সরকারি বাহিনী।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত জুলাইয়ে সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। এতে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন আড়াই লাখের বেশি মানুষ।

২০২২ সালের এপ্রিল থেকে ইয়েমেনে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় সেই পরিস্থিতির অবসান হয়েছে। অব্যাহত লড়াই ও মানুষের বাস্তুচ্যুতির কারণে দেশটির মানবিক সংকটও আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা ও কয়েকটি প্রদেশ দখল করে নিলে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সহায়তা দিতে ২০১৫ সালের মার্চে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট দেশটিতে হস্তক্ষেপ করে। এরপর থেকে সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিপর্যস্ত হয়ে রয়েছে ইয়েমেন।

মন্তব্য (০)





  • company_logo