নিউজ ডেস্কঃ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রেলস্টেশনে গভীর রাতে ঘুমন্ত দুই পথশিশুকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মাকসুদ আলী নামে একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেলস্টেশন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, দুই পথশিশুকে এক হাজার টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সঙ্গে নেওয়ার চেষ্টা করেন চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি। শিশুরা রাজি না হলে তাদের জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে শিশুদুটির চিৎকার শুনে এক ব্যক্তি এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান। পরে ওই ব্যক্তি শিশু দুটিকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান এবং তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেন।
রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে ওই ব্যক্তি শিশু দুটিকে নিয়ে আবার রেলস্টেশনে গেলে অভিযুক্তদের একজনকে সেখানে দেখতে পান। পরে স্থানীয়রা তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। আটক ব্যক্তির পকেটে পাওয়া পরিচয়পত্র অনুযায়ী, তার নাম মাকসুদ আলী। পরিচয়পত্রে তার ঠিকানা সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার তেলিয়া গ্রাম উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত চবির ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মিনহাজ আলম সৌরভ জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি চললেও পরীক্ষা থাকায় তিনি ক্যাম্পাসসংলগ্ন জিরো পয়েন্ট এলাকায় অবস্থান করছেন। সকালে ফজরের নামাজ শেষে ফেরার পথে রেলস্টেশনে কয়েকজনকে জড়ো হতে দেখে তিনি সেখানে যান। পরে স্থানীয়দের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন।
সৌরভ বলেন, শিশু দুটির একজনের বয়স আনুমানিক ১৩ থেকে ১৪ বছর এবং অন্যজনের বয়স ১০ বছরের নিচে। রাত সাড়ে ৩টার দিকে চার থেকে পাঁচজন ব্যক্তি তাদের এক হাজার টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সঙ্গে যেতে বলেন। শিশুরা রাজি না হলে তাদের মুখ চেপে ধরে এবং হাত-পা ধরে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।
তিনি আরও জানান, ফজরের নামাজ শেষে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনিও আটক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় ওই ব্যক্তি একটি মোটা কাঠের লাঠি দিয়ে তাকে আঘাতের চেষ্টা করেন। পরে উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে তার হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
সৌরভের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার পর অভিযুক্তকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রক্টরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। পরে নিরাপত্তাকর্মীদের মাধ্যমে যোগাযোগ সম্ভব হলে প্রক্টরিয়াল বডির একজন প্রতিনিধি ঘটনাস্থলে যান এবং অভিযুক্তকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ নেন।
তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর অভিযুক্তকে হেফাজতে নিতে প্রথমে অনীহা প্রকাশ করে বলে অভিযোগ করেন সৌরভ। তার দাবি, অভিযুক্তকে মারধর করা হয়েছে উল্লেখ করে পুলিশ তাকে আগে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে। এ নিয়ে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয়দের প্রতিবাদের মুখে পুলিশ অভিযুক্তকে নিয়ে যায়।
এদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তির ছবি প্রকাশ্যে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক নারী শিক্ষার্থী তার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন। ওই শিক্ষার্থীর দাবি, এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন মাশাল্লাহ হোটেলের গলি দিয়ে যাওয়ার সময় একই ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করেন। একপর্যায়ে পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে স্পর্শ করে চলে যান। সে সময় একা থাকায় তিনি প্রতিবাদ করতে পারেননি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) আইন ও মানবাধিকারবিষয়ক সম্পাদক ফজলে রাব্বি তৌহিদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতাধীন যেকোনো স্থানে শিক্ষার্থী কিংবা বহিরাগত সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রক্টরিয়াল বডি ও নিরাপত্তা দপ্তরের। ঘটনাটি গভীর রাতে ঘটেছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছুটি চলমান থাকায় নিরাপত্তাকর্মীদের কিছুটা সংকট থাকতে পারে। তবে তা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে না।
মন্তব্য (০)