নিউজ ডেস্ক: রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) দায়িত্বে অবহেলা ছিল বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ ঘটনায় ওসির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
আজ (রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘দুর্বৃত্তদের রাজনৈতিক পরিচয় সরকার বিবেচনায় নেবে না। যে পরিচয়েই থাকুক, জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে দুই শতাধিক মুখোশধারী ব্যক্তি দেশিয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় বলে অভিযোগ। প্রথমে নিরাপত্তাকর্মীদের বেঁধে ফেলা হয়। এরপর কেন্দ্রের একটি পাকা ও তিনটি আধাপাকা ভবন ভেঙে দেয়া এবং এসি, ফ্রিজ, ওষুধ, টিকা, টাকা ও আসবাবসহ বিভিন্ন সামগ্রী লুট করার অভিযোগ ওঠে।
ভাঙচুরের পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে একটি সাইনবোর্ড টাঙানো হয়। কেন্দ্রটির কর্তৃপক্ষের দাবি, জমি দখলের উদ্দেশ্যেই এ হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭৪ সাল থেকে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্নআয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবা, টিকাদান, প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল।
ঘটনার পর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের পক্ষ থেকে শাহ আলী থানায় মামলা করা হয়। এর মধ্যে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অর্থের বিনিময়ে হামলায় অংশ নেয়ার কথা স্বীকার করেছেন।
রাড্ডা সেন্টার ভাঙচুরের সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত থাকার বিষয়টিও সামনে এসেছে। সিসিটিভি ফুটেজে পুলিশের একটি গাড়ি বাইরে থাকা অবস্থায় কেন্দ্র থেকে মালামাল পিকআপে তোলার দৃশ্য দেখা গেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর ডিএমপি কমিশনারও পুলিশের গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার কথা জানান।
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও নিয়েও বক্তব্য
এদিকে, কন্টেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এ ঘটনায় সালমান মুক্তাদির কারও বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট মামলা করেননি; তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে ঢালাও অভিযোগ করেছেন। নির্দিষ্ট অভিযোগ বা মামলা হলে সে অনুযায়ী তদন্ত করা হবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জায়গাটি নিয়ে বিরোধ ছিল।’ অবসরপ্রাপ্ত এক সামরিক কর্মকর্তার পক্ষের কয়েকজন সালমান মুক্তাদিরের অফিসে ভাঙচুর করেছে বলে তিনি জানান। বিষয়টি তদন্তাধীন।
এর আগে, ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রোপার্টিজ এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য ছিল, জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে একটি পক্ষ জায়গা দখলের চেষ্টা করলে ওই স্টুডিও ভাঙচুরের মধ্যে পড়ে। সালমান মুক্তাদির অবশ্য বিএনপির লোকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন।
নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য নিয়েও মন্তব্য
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীর সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ওইসব লোকের অসংলগ্ন ও ভারসাম্যহীন কথাবার্তার জবাব দিতে চাই না।’
১১-দলীয় ঐক্য থেকে দুটি দল বেরিয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা বলছে ৯ দলের ৯ দফা দাবি মেনে নিলে ককটেল বিস্ফোরণ হবে না, এ ধরনের বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তারা এসব ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ দিচ্ছে।’
এর আগে, রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণ নিয়ে নাসীরউদ্দীন পাটওয়ারীর একটি বক্তব্যের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছিলেন ডিএমপির এক কর্মকর্তা। এ ঘটনায় পুলিশ যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের তদন্তও চালাচ্ছে।
ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি গ্রেপ্তার
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।’
ক্যান্টনমেন্ট থানার সাবেক ওসি রাকিবুল হাসানকে ২৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং পরে আদালত তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ড দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি অডিওকে কেন্দ্র করে এর আগে তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদর দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছিল।
জাসদ কার্যালয়ে আটকদের নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য
রাজধানীর গুলিস্তানের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) কার্যালয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছিল বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তার দাবি, সেই তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ দেড়শো থেকে দুইশো মানুষকে আটক করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ২৭ জন ছাড়া বাকিদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। নাশকতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
তিনি বলেন, ‘কাউকে হয়রানি করার উদ্দেশে আটক করা হয়নি।’
এর আগে, গতকাল (শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর) গুলিস্তানের জিপিও মোড়ে জাসদের প্রধান কার্যালয়ে ডিএমপির অভিযান শুরু হয়। পুলিশ জানিয়েছিল, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখানে গোপন বৈঠক করছেন, এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়েছে। বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা সেখানে অবস্থানরত ব্যক্তিদের পরিচয় ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা যাচাই-বাছাইয়ের কথা জানিয়েছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আটক ব্যক্তির সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্যও এসেছে।
মন্তব্য (০)