বিনোদন ডেস্কঃ ক্যালিফোর্নিয়ার ইউনিভার্সাল হিলটনে ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয়েছে তিন দিনব্যাপী ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ২০২৬। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত বাংলাদেশি সংগঠন, শিল্পী ও কমিউনিটির সদস্যদের অংশগ্রহণে এই আয়োজন পরিণত হয় বাংলাদেশি সংস্কৃতি, সংগীত ও সম্প্রীতির এক মিলনমেলায়।
তিন দিনের এই উৎসবে উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠনের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও উপমহাদেশের জনপ্রিয় তারকা শিল্পীরাও অংশ নেন। বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির উপস্থিতিতে সংগীত, সংস্কৃতি, নেটওয়ার্কিং ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে উদ্যাপিত হয় এবারের ফোবানা।
এবারের কনভেনশনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক খালেদ মুহিউদ্দীন, ঠিকানা টিভি ইউএসএ-এর আবীর আলমগীরসহ বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
ফোবানা কনভেনশনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন বাংলাদেশি সংগঠনকে মূল মঞ্চে নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা তুলে ধরার সুযোগ দেওয়া। এর মাধ্যমে সংগঠনগুলো বৃহত্তর প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির সামনে নিজেদের কার্যক্রম ও সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরার সুযোগ পায়।
এ বছর দীর্ঘ বিরতির পর ফোবানার মঞ্চে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা নিয়ে অংশ নেয় বাংলাদেশ কমিউনিটি অব ইন্ডিয়ানা—বিসিআই। ইন্ডিয়ানা থেকে সংগঠনটির ১২ সদস্যের একটি দল কনভেনশনে যোগ দেয়।
প্রতিনিধি দলে বিসিআই-এর ছয়জন নির্বাহী সদস্য ছিলেন—সভাপতি মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, সহসভাপতি আজাহার আলী, সহসভাপতি আনোয়ার পারভেজ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আল হাবিব, তহবিল সংগ্রহ সম্পাদক আলী রহমান নাবিল এবং সাবেক সভাপতি ও বোর্ড ট্রেজারার আরাফাত হোসাইন।
বিসিআই-এর নির্ধারিত সাংস্কৃতিক পর্বে শিলা ফারহানা রহমান তানিয়া, নামীরা শিলা রহমান, ড. আশিকুর রহমান, ড. নিলুফার ইসলাম মনা এবং জেমস ফেরদৌস অংশ নেন। ঐতিহ্যবাহী বাঁশির সুর দিয়ে শুরু হওয়া পরিবেশনায় ছিল বাংলা গানের একটি সংক্ষিপ্ত মেডলি। বিসিআই কমিউনিটির তারকা শিল্পী জেমস ফেরদৌসের কণ্ঠে জনপ্রিয় গান অ্যাঞ্জেল নূরের ‘যদি আবার’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে বিসিআই-এর সাংস্কৃতিক পর্ব শেষ হয়।
ঠিকানা টিভি ইউএসএ-এর আবীর আলমগীর বিসিআই-এর পরিবেশনা সম্পর্কে বলেন, “মিউজিক্যাল মেডলির ধারণাটি ছিল বেশ ব্যতিক্রমী। বিশেষ করে গানগুলোর নির্বাচন এমন ছিল, যা ভালো শিল্পীদের পক্ষেই সুন্দরভাবে পরিবেশন করা সম্ভব। আর তারা সেটি নিখুঁতভাবেই করেছেন। তাদের পরিবেশনা আমাদের সত্যিই অবাক করেছে। ফোবানার মঞ্চে বিসিআই-এর এই অভিষেক ছিল অত্যন্ত চমৎকার ও প্রশংসনীয়।”
বিসিআই সভাপতি মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম বলেন, “আমাদের সংস্কৃতিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য এটি একটি অসাধারণ সুযোগ। ফোবানার সদস্য হতে পেরে এবং এই বৃহৎ আয়োজনে বিসিআইকে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।”
সাংস্কৃতিক সম্পাদক আল হাবিব বলেন, “নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দর্শকদের একটি সুন্দর ও মানসম্মত পরিবেশনা উপহার দেওয়ার জন্য আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি এবং এমন একটি দল তৈরির চেষ্টা করেছি, যারা এই মঞ্চে বিসিআইকে সুন্দরভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।”
সাবেক সভাপতি ও বোর্ড ট্রেজারার আরাফাত হোসাইন বলেন, “ফোবানার ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, নারী ক্ষমতায়ন কার্যক্রম এবং বিভিন্ন খাবারের স্টল আমাকে মুগ্ধ করেছে। উত্তর আমেরিকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা এত বাংলাদেশির সঙ্গে পরিচিত হওয়া ও যোগাযোগ তৈরির সুযোগটি ছিল সত্যিই অসাধারণ।”
তিন দিনের এই আয়োজনে প্রায় ২০টি বাংলাদেশি সংগঠন তাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিবেশনা তুলে ধরে। পাশাপাশি প্রতিদিনই ছিল জনপ্রিয় তারকা শিল্পীদের পরিবেশনা। এবারের আয়োজনে তারকা শিল্পীদের মধ্যে ছিলেন জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ঋতুপর্ণা, কণা, ইমরান মাহমুদুল, মুজা, ঝিলিক ও সঞ্জয়।
মিস বাংলাদেশ ইন-ট্রেনিং—এমবিআইটির প্রতিষ্ঠাতা ড. নিলুফার ইসলাম মনা বিসিআই-এর শিল্পী হিসেবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি এবারের ফোবানায় নির্বাচিত উপস্থাপক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ড. নিলুফার ইসলাম বলেন, “এত বড় মঞ্চে বিসিআইকে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে খুব গর্বিত হয়েছি। চারপাশে বাংলা গান, সংস্কৃতি আর এত বাংলাদেশিকে একসঙ্গে দেখে মনে হচ্ছিল, যেন দেশেরই কোনো উৎসবে আছি। প্রবাসে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের জন্য সেই অনুভূতিটা সত্যিই খুব আবেগের ছিল।”
তিন দিনের ৪০তম ফোবানা কনভেনশন ছিল শুধু একটি সাংস্কৃতিক উৎসব নয়; এটি উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের পারস্পরিক যোগাযোগ, ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কিং, নারী ক্ষমতায়ন এবং নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরার একটি বৃহৎ মিলনমেলায় পরিণত হয়।
মন্তব্য (০)