রংপুর ব্যুরো : দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন-রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার বাস্তব চিত্র, রোগীদের ভোগান্তি ও সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি সরেজমিনে দেখতে মাসে অন্তত দুবার হাসপাতাল পরিদর্শনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।একই সঙ্গে হাসপাতালের দীর্ঘদিনের জনবল সংকট মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দক্ষ জনবলকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে কাজে লাগানোর বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে তিস্তা অববাহিকায় বর্ষা মৌসুমে উজান থেকে আসা বিপুল পানি পরিকল্পিতভাবে বাঁধের মাধ্যমে সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে তা শাখা নদীগুলোতে প্রবাহিত করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী। তাঁর মতে, তিস্তা অববাহিকার মানুষের জীবন-জীবিকা,কৃষি ও পরিবেশের ভারসাম্য বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রয়োজন।
রোববার (১৬ আগস্ট) বিকেলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ভবন উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এ অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসার অন্যতম প্রধান ভরসাস্থল। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান, রোগীদের ভোগান্তি এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সরেজমিনে দেখা জরুরি। যাতায়াতের পথে মাসে অন্তত দুইবার তিনি হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, শুধু অফিসে বসে হাসপাতালের পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নিলে প্রকৃত চিত্র জানা সম্ভব নয়। রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি, চিকিৎসক-নার্সদের কাজের পরিবেশ, অবকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার ঘাটতি সরাসরি দেখার মাধ্যমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে।
হাসপাতালের জনবল সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। স্বাস্থ্যসেবায় প্রয়োজনীয় জনবল বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সংকট মোকাবিলায় নতুন চিন্তাভাবনা প্রয়োজন। দক্ষ জনবলকে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে কাজে লাগানোর বিষয়টিও তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেছেন।
অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর এই বক্তব্যে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের দীর্ঘদিনের জনবল সংকট নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। হাসপাতালটিতে চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্টসহ বিভিন্ন পর্যায়ে জনবল ঘাটতির কারণে রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। অতিরিক্ত রোগীর চাপের বিপরীতে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় চিকিৎসকদেরও বাড়তি চাপ সামলাতে হয়।
এদিকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিস্তা অববাহিকায় নতুন করে বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনার বিষয়েও কথা বলেন দুর্যোগ ও ত্রাণমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে তিস্তায় উজান থেকে বিপুল পরিমাণ পানি আসে। ওই পানি পরিকল্পিতভাবে বাঁধের মাধ্যমে সংরক্ষণ করা হবে। পরে শুষ্ক মৌসুমে সংরক্ষিত পানি শাখা নদীগুলোতে প্রবাহিত করার চেষ্টা থাকবে।
মন্ত্রী বলেন, শুধু বর্ষায় বন্যা ও অতিরিক্ত পানি নিয়ন্ত্রণ করলেই হবে না; শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকটও দূর করতে হবে। তিস্তা অববাহিকার মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করাও পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত।
তিস্তা নদীকে ঘিরে রংপুরসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা একটি কার্যকর ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা। বর্ষায় নদীর পানি বৃদ্ধি, বন্যা ও ভাঙনের ঝুঁকি যেমন তৈরি হয়, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে পানির সংকট কৃষি ও জনজীবনে প্রভাব ফেলে। মন্ত্রীর নতুন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বর্ষার পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষি ও অন্যান্য প্রয়োজনে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা, পরিকল্পনার কথা শুধু ঘোষণার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একইভাবে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসাসেবা, জনবল ও অবকাঠামোগত সমস্যারও দ্রুত সমাধান হবে-এমন প্রত্যাশা তাঁদের।
অনুষ্ঠানে নারী সংসদীয় আসনের এমপি রেজেকা সুলতানা ফেন্সি,রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি, রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান, চিকিৎসক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিএনপির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসোলেশন ভবন উদ্বোধনের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়ন, জনবল সংকট মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ এবং তিস্তার পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্যকে ঘিরে রংপুরবাসীর মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এখন এসব উদ্যোগ কত দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগোয়, সেটিই দেখার বিষয়।
মন্তব্য (০)