ছবিঃ সিএনআই
নিউজ ডেস্ক : কুরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে পশুর হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড় বাড়তে থাকে। এ সময় অতিরিক্ত মুনাফার লোভে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী গরুকে দ্রুত মোটা দেখাতে বিভিন্ন ক্ষতিকর ইনজেকশন, হরমোন কিংবা স্টেরয়েড ব্যবহার করেন।
বাইরে থেকে দেখতে আকর্ষণীয় ও অস্বাভাবিক মোটাতাজা মনে হলেও এমন পশু কেনা স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব গরুর মাংস খেলে মানুষের লিভার ও কিডনিতে গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
তাই হাটে গিয়ে যেন প্রতারণার শিকার না হতে হয় এবং সুস্থ ও প্রাকৃতিকভাবে মোটাতাজা পশু সহজে শনাক্ত করা যায়, সে জন্য চিকিৎসকদের দেওয়া তিনটি কার্যকর পরামর্শ নিচে তুলে ধরা হলো।
আঙুল দিয়ে চাপ দিয়ে পরীক্ষা: হরমোন বা স্টেরয়েড প্রয়োগ করা গরুর শরীরে সাধারণত অতিরিক্ত তরল জমে যায়। এটি বোঝার সহজ উপায় হলো গরুর শরীরের মাংসল স্থানে চাপ দেওয়া। বিশেষ করে পিঠ বা রান এলাকায় আঙুল দিয়ে কিছুক্ষণ চাপ দিন। যদি চাপের জায়গা বসে গিয়ে কিছু সময় দাগের মতো থেকে যায়, তাহলে ধরে নেওয়া যায় গরুটিকে কৃত্রিমভাবে মোটাতাজা করা হয়েছে। স্বাভাবিক ও সুস্থ গরুর মাংস তুলনামূলক শক্ত থাকে এবং চাপ সরিয়ে নিলে দ্রুত আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
গরুর স্বাভাবিক আচরণ লক্ষ্য করুন: অস্বাভাবিকভাবে মোটা করা গরুগুলো বেশিরভাগ সময় শারীরিকভাবে দুর্বল থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের পশুর লিভার ও কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। ফলে তাদের চলাফেরা ও আচরণেও পরিবর্তন দেখা যায়।
এ ধরনের গরু সাধারণত নিস্তেজ থাকে, হাঁটাচলায় অনীহা দেখায় এবং সামান্য নড়াচড়াতেই হাঁপিয়ে পড়ে। অনেক সময় মাথা নিচু করে ঝিম মেরে দাঁড়িয়ে থাকে। চোখও স্বাভাবিকের তুলনায় ঘোলা বা ক্লান্ত দেখায়। অন্যদিকে সুস্থ গরু সচল ও সতর্ক থাকে। আশপাশে মানুষ দেখলে প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং কান-লেজ নেড়ে স্বাভাবিক আচরণ করে।
অস্বাভাবিক ফোলা ভাব ও অতিরিক্ত লালা: ক্ষতিকর ওষুধ বা ইনজেকশনের প্রভাবে অনেক গরুর শরীর অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায়। ভালোভাবে খেয়াল করলে এ পরিবর্তন সহজেই বোঝা সম্ভব। অনেক ক্ষেত্রে এসব গরুর মুখ দিয়ে অতিরিক্ত লালা বা ফেনা বের হতে দেখা যায়। বিশেষ করে উরু, রান, থুতনি কিংবা প্রস্রাবের পথের আশপাশের অংশ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ফোলা মনে হয়। কখনও কখনও শরীরের চামড়া অতিরিক্ত টানটান দেখায়।
কেন ঝুঁকিপূর্ণ: প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতিরিক্ত স্টেরয়েড বা ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার করা পশুর মাংস মানুষের স্বাস্থ্যের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এছাড়া এমন গরু দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কাও থাকে।
গরু ক্রেতাদের জন্য বিশেষ পরামর্শ: প্রথমবার গরু কিনতে গেলে অভিজ্ঞ ব্যক্তি বা পরিচিত খামারিকে সঙ্গে নেওয়া ভালো। হুট করে সিদ্ধান্ত নেবেন না। গরুর দাঁত, চোখ ও হাঁটা ভালোভাবে দেখুন। খুব বেশি চকচকে বা অস্বাভাবিক মোটা গরু হলে সতর্ক থাকুন। বিশ্বস্ত খামার বা পরিচিত বিক্রেতার কাছ থেকে কেনার চেষ্টা করুন। দরদামের আগে অন্তত ১০-১৫ মিনিট পর্যবেক্ষণ করুন।
নিউজ ডেস্ক : অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিচালনায় ‘কিচেন ক...
নিউজ ডেস্ক : রাজধানীর মিরপুর-পল্লবী এলাকার কালশি বস্তিতে ভয়া...
নিউজ ডেস্ক : মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আম...
নিউজ ডেস্ক : অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম...
নিউজ ডেস্ক : রাজধানীতে মাত্র এক ঘণ্টার ভারি বৃষ্টিতেই বিভিন্...

মন্তব্য (০)