ছবিঃ সংগৃহীত
নিউজ ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, জ্বালানি তেল আমদানির অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং রাজস্ব খাতে জরুরি কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়নের মাধ্যমে কর আহরণ বাড়ানো বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। রোববার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. তিতুমীর জানান, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার একটি সমন্বিত কৌশল নিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে স্বচ্ছতা আনা এবং অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণ বাড়ানো।
তিনি বলেন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই মুহূর্তে অত্যন্ত জরুরি। যেকোনো মূল্যে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার একটি কৌশলগত ঋণ কাঠামো ব্যবহার করছে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ড. তিতুমীর বলেন, জ্বালানি চাহিদা পূরণে সরকার আন্তর্জাতিক অংশীদারদের কাছ থেকে স্বল্পসুদে অর্থায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে বর্তমানে তিনটি আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এগুলো হলো—আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ), এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং বিশ্বব্যাংক।
তিনি বলেন, সরকারের ঋণ গ্রহণ কৌশল এমনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে সর্বনিম্ন সুদে অর্থায়ন নিশ্চিত করা যায় এবং দীর্ঘমেয়াদে ঋণের স্থায়িত্ব বজায় থাকে। সবচেয়ে অনুকূল শর্তে ঋণদাতাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়াই সরকারের লক্ষ্য।
সরকার আন্তর্জাতিক ঋণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ ব্যয়সংকোচনের দিকেও গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, ব্যয়ের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা আনা, বিভিন্ন খাতে বাজেট কমিয়ে জ্বালানি তেল ক্রয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সামগ্রিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও বলেন, এ ধরনের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন জ্বালানি খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে এবং একই সঙ্গে সরকারের সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখবে।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি প্রসঙ্গে ড. তিতুমীর বলেন, এসব কর্মসূচিকে রাজনীতিমুক্ত করার দিকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। রাষ্ট্রের সহায়তা যেন প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে—এটি নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডে কোনো রাজনীতিকরণ করা হয়নি। কৃষক কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রেও রাজনীতিকরণ করা হবে না। যে যোগ্য, সেই কৃষক কার্ড পাবেন। আগে এসব ক্ষেত্রে রাজনীতিকরণ করা হতো।
দেশের রাজস্ব আহরণের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত পরিসংখ্যানগতভাবে খুবই দুর্বল এবং এটি বিশ্বে অন্যতম নিম্ন পর্যায়ে রয়েছে। তিনি এটিকে একটি কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা হিসেবে উল্লেখ করেন, যা সরকারের বৃহৎ পরিসরে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতাকে সীমিত করে।
তিনি বলেন, জাতীয় অর্থনীতির স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় জনসেবা প্রদানের জন্য কর-জিডিপি অনুপাত বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।
নিউজ ডেস্কঃ সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের ওয়ার্ক পারমিট...
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্...
নিউজ ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ২০২৬-২৭ অর্...
নিউজ ডেস্কঃ শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ক...
নিউজ ডেস্কঃ চব্বিশের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ...

মন্তব্য (০)