• লাইফস্টাইল

রোজার বহুমুখী গুণ: শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার ৮ চাবিকাঠি

  • লাইফস্টাইল

ছবিঃ সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক : ইসলাম কারো উপর অন্যায়ভাবে কোনো কর্ম চাপিয়ে দেয় না। শরীরের সার্বিক উন্নতির জন্য রোজা কর্মসূচি পালন হয়। এছাড়াও মানবদেহের জন্য এক শক্তিশালী প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে। আত্মসংযম এবং খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে এটি একজন ব্যক্তিকে যেমন মানসিক প্রশান্তি দেয়, তেমনি আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানও এর নানাবিধ শারীরিক উপকারিতা স্বীকার করেছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রোজা রাখার ফলে মানবদেহে যে আটটি গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটে, তা নিচে তুলে ধরা হলো:

১. শরীর থেকে টক্সিন নির্গমন 

আমাদের চারপাশে বাতাস, খাবার এবং শরীরের ভেতরকার রাসায়নিক বিক্রিয়ার ফলে প্রচুর বিষাক্ত পদার্থ বা ‘টক্সিন’ জমা হয়। এ টক্সিনগুলোর বেশিরভাগই শরীরের চর্বিতে জমা থাকে। রোজা রাখার সময় শরীরের এ অতিরিক্ত চর্বি পুড়তে শুরু করে, যার ফলে প্রাকৃতিকভাবেই শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থগুলো বেরিয়ে যায়।

২. পরিপাকতন্ত্রের বিশ্রাম ও সুস্থতা 

সারাদিন না খেয়ে থাকার ফলে পরিপাকতন্ত্র দীর্ঘ সময় বিশ্রাম পায় এবং শরীরের তরল পদার্থের ভারসাম্য বজায় থাকে। রমজান বা রোজার সময় ধূমপান ও অতিরিক্ত কফি পানের অভ্যাস কমে আসে, যা পাকস্থলীকে আরাম দেয়। বিশেষ করে ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) বা গ্যাস্ট্রোইসোফেজিয়াল রিফ্লাক্সের মতো সমস্যায় রোজা অত্যন্ত কার্যকর চিকিৎসা হিসেবে কাজ করে।

৩. প্রদাহ ও অ্যালার্জি নিরাময়

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত রোজা রাখা শরীরের বিভিন্ন ধরণের প্রদাহ, অ্যালার্জি, বাতের ব্যথা এবং ত্বকের সমস্যা যেমন—সোরিয়াসিস নিয়ন্ত্রণে দারুণ ভূমিকা রাখে।

৪. রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ 

রোজা রাখার ফলে শরীরের গ্লুকোজ দ্রুত ভেঙে যায়, যা ইনসুলিন উৎপাদনের চাপ কমায়। এতে অগ্ন্যাশয় বিশ্রাম পায় এবং সামগ্রিকভাবে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

৫. অতিরিক্ত চর্বি পোড়ানো 

শরীরে শক্তির যোগান দিতে জমে থাকা গ্লুকোজ যখন শেষ হয়ে যায়, তখন শরীর শক্তি আহরণের জন্য কিডনি ও পেশির চারপাশে জমে থাকা চর্বি পোড়াতে শুরু করে। এটি ওজন কমাতে এবং মেদ ঝরাতে সরাসরি সাহায্য করে। 

৬. উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ 

উচ্চ রক্তচাপ কমানোর অন্যতম প্রাকৃতিক উপায় হল রোজা। এটি ধমনী শক্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায় এবং অ্যাড্রেনালিনের মতো হরমোনের নিঃসরণ কমিয়ে রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। 

৭. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গঠন

চিকিৎসা শাস্ত্রের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, রোজা রাখলে প্রক্রিয়াজাত খাবার বা ফাস্ট ফুডের প্রতি মানুষের আকর্ষণ কমে আসে এবং প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পায়।

৮. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি 

শরীর থেকে টক্সিন ও অতিরিক্ত চর্বি দূর হওয়ার ফলে এবং স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে ওঠার কারণে দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেম আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। 

সূত্র: সামা টিভি 

মন্তব্য (০)





image

ঈদে মেহেদির রং গাঢ় রাখার সহজ টিপস

নিউজ ডেস্ক : ঈদের সাজ মানেই হাতে মেহেদির রঙিন ছোঁয়া। এই ঐতিহ্যবাহী সৌন্দ...

image

কিডনির পাথর দূর করতে যেসব ফল উপকারী

নিউজ ডেস্ক : কিডনি স্টোন একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা, যা তীব্র ব্যথা ও ...

image

ঈদের দিনে শাহি স্বাদের খাবার ফিরনি, জেনে নিন রেসিপি

নিউজ ডেস্ক : আর মাত্র কয়েক দিন ঈদ। এর পরেই ঈদের আনন্দে মেতে উঠবে পুরো মু...

image

শরীরে শক্তি পেতে নিয়মিত যেসব ভিটামিন খেতে হবে

নিউজ ডেস্ক : আজকাল আমরা সবাই শক্তিশালী থাকতে চাই, কিন্তু ক্ল...

image

ইফতারের সময় গ্যাসের ওষুধ খাওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ

নিউজ ডেস্ক : রমজান মাসে ইফতার কিংবা সেহরির আগে অনেকেই খালি পেটে গ্যাসের ...

  • company_logo