নওগাঁ প্রতিনিধি: অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নওগাঁ জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন দলীয় ২৭ জন এবং স্বতন্ত্র ৫জনসহ মোট ৩২জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। তাদের মধ্যে ২০ জন প্রার্থীই তাদের জামানত হারাতে বসেছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোট গ্রহণ শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিধি অনুযায়ী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কোনো প্রার্থী তার নির্বাচনী এলাকার প্রদত্ত ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। এবার সংসদ সদস্য নির্বাচনে একজন প্রার্থীকে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অনুকূলে ৫০ হাজার টাকা জামানত দিতে হয়েছে। এরপর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আট শতাংশ ভোট না পেলে ওই ২০জন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে।
ফলাফল ঘোষণা পর জানা যায়, নওগাঁ-১ (পোরশা, সাপাহার ও নিয়ামতপুর) আসনের তিনজন প্রার্থী তাদের জামানত হারাচ্ছেন। এই আসনে দলীয় ও স্বতন্ত্রসহ মোট ৫জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। অনুষ্ঠিত ভোটে এদের মধ্যে তিনজন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ডা. ছালেক চৌধুরী স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে (মোটরসাইকেল) প্রতীকে পেয়েছেন ১৮ হাজার ৮৮টি ভোট। আর জাতীয় পার্টির আকবর আলী (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ২৪৩ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির মো: আব্দুল হক শাহ্ (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৯ হাজার ৫৮ ভোট। এই আসনে ১৬৬ টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৬৫ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ৩লাখ ৬৭ হাজার ৫১১টি। কাজেই এই তিন প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত করা হবে।
নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামুইরহাট) আসনে একজন প্রার্থী তার জামানত হারাচ্ছেন। এই আসনে বিভিন্ন দলের ৩জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। এদের মধ্যে একজন প্রার্থী জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। এই আসনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির মতিবুল ইসলাম ঈগল প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৫৮০ ভোট। এই আসনে ১২৪ টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৭২ হাজার ৪৩৬ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ২ লাখ ৮৬ হাজার ৭০টি। ৮শতাংশ ভোট না পাওয়ায় তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।
নওগাঁ-৩ (বদলগাছী ও মহাদেবপুর) আসনে ছয়জন প্রার্থী তাদের জামানত হারাচ্ছেন। এই আসনে বিভিন্ন দলীয় ও স্বতন্ত্রসহ ৮জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেন। অনুষ্ঠিত ভোটে এদের মধ্যে ছয়জন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। এই আসনে সাবেক ডেপুটি স্পিকার আকতার হামিদ সিদ্দিকীর ছেলে পারভেজ আরেফিন সিদ্দিকি জনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে (কলস) প্রতীকে পেয়েছেন ১৭ হাজার ১২৯টি ভোট। আর বাংলাদেশ ন্যাশনালিষ্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ) এর আব্দুল্লাহ আল-মামুন সৈকত (টেলিভিশন) প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ১৯৫ ভোট, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) এর কালিপদ সরকার (মই) প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ২৩৩ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রার্থী নাসির বিন আছগর (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৪৩ ভোট, জাতীয় পার্টির মাসুদ রানা (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ৮৬৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সাদ্দাম হোসেন (জাহাজ) প্রতীকে পেয়েছেন মাত্র ৮২৩ ভোট। এই আসনে ১৪২টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৪ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৫ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ৩লাখ ২১ হাজার ৯৬৭টি। কাজেই এরা সকলেই জামানত হারাতে বসেছেন।
নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনে চারজন প্রার্থী তাদের জামানত হারাচ্ছেন। এই আসনে চারজন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। এখানে বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির ডা: এস এম ফজলুর রহমান (কাস্তে) প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ৩১৩ ভোট, জাতীয় পার্টির আলতাফ হোসেন (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৩২৭ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলদেশ পার্টির সোহরাব হোসাইন (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৬০৯ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মোসা: আরফানা বেগম (কলস) প্রতীকে পেয়েছেন ৭১২ ভোট। এই আসনে ১১৭টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৬০ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ২লাখ ৪১ হাজার ৮৪৮টি। এরা সকলেই জামানত হারাতে বসেছেন।
নওগাঁ-৫ (সদর) আসনে তিনজন প্রার্থী তাদের জামানত হারাচ্ছেন। এই আসনে তিনজন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। অনুষ্ঠিত প্রাপ্ত ভোটে জাতীয় পার্টির মো: আনোয়ার হোসেন (লাঙ্গল) প্রতীকে পেয়েছেন ২ হাজার ১৭৬ ভোট, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির মো: আব্দুর রহমান (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ৪ হাজার ১০১ ভোট এবং বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির শফিকুল ইসলাম (কাস্তে) প্রতীকে পেয়েছেন ৭৪১ ভোট। এই আসনে ১১৮টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৬৩ হাজার ৩০ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ২লাখ ৪৬ হাজার ৬৯৭টি। এরা সকলেই জামানত হারাতে বসেছেন।
এবং নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনে তিনজন প্রার্থী তাদের জামানত হারাচ্ছেন। এই আসনে তিনজন প্রার্থীই জামানত রক্ষা করার মতো ভোট পাননি। অনুষ্ঠিত প্রাপ্ত ভোটে আসনটিতে বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে (মোটরসাইকেল) প্রতীকে পেয়েছেন ১৯ হাজার ৬৩৮ ভোট। অপরদিকে বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) আতিকুর রহমান রতন মোল্লা (হাতি) প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫৫ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির মো: রফিকুল ইসলাম (হাতপাখা) প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ৮৩৩ ভোট। এই আসনে ১১৫টি কেন্দ্রের মোট ভোটার ছিল ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৪১৬ জন। এর মধ্যে প্রদত্ত মোট ভোট সংখ্যা ২লাখ ৩২ হাজার ৯২৩টি। নিয়ম অনুযায়ী ৮শতাংশ ভোট না পাওয়ায় তারা সকলেই জামানত হারাচ্ছেন।
নওগাঁ জেলা নির্বাচন অফিসার মো: আব্দুল মোত্তালিব জানান, এবার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি প্রার্থীকে ৫০ হাজার টাকা করে জামানত দিতে হয়েছে। অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কেউ যদি তার নির্বাচনী এলাকার প্রদত্ত ভোটের ৮শতাংশ ভোট না পান, তাহলে তাঁর জমাকৃত জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, জেলার ১১টি উপজেলার ৬টি আসনে ভোটার ছিল ২৩ লাখ ২৯ হাজার ৫৯২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ জন এবং নারী ভোটার ১১ লাখ ৬৯ হাজার ৮০৭ জন। এদের মধ্যে তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিল মোট ২১ জন। জেলার ৭৮২ টি কেন্দ্রে মোট ৭৫ দশমিক ২৭ শতাংশ ভোটার ভোট প্রদান করেছেন।
মন্তব্য (০)