নিউজ ডেস্কঃ নির্বাচনের বাকি অল্প কিছু দিন, তার আগে সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে ফেক ভিডিও ও ফটোকার্ড। এতে বিভ্রান্ত হচ্ছেন ভোটাররা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনের আগে অবশ্যই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এআই সংক্রান্ত একটি আইন করা উচিত ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের। যেহেতু সেটি হচ্ছে না তাই সচেতনতা বৃদ্ধি ও গুজব প্রতিরোধে ইসিকে বিশেষ সেল গঠনের পরামর্শ তাদের।
গেল কিছুদিন ধরেই অনেক ফেইক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে অবাধে, অথচ আর কিছু দিন পরই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এসব ভিডিওর মাধ্যমে একদিকে যেমন ছড়াচ্ছে অপতথ্য, অন্যদিকে নির্বাচনে অংশ নেয়া দল বা প্রার্থীদের সম্পর্কেও ছড়িয়ে পড়ছে নানা গুজব।
কেবল ভিডিও নয়, গণমাধ্যমের লোগো ব্যবহার কিংবা ভুল বানান ব্যবহার করে হুবহু টেলিভিশন বা পত্রিকার নামেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে ভুয়া ফটোকার্ড, ফলে বিভ্রান্ত হচ্ছেন ভোটাররা। এত দ্রুত এসব ভিডিও বা ফটোকার্ড ছড়াচ্ছে, যে বেশিরভাগ মানুষই এর সত্যতা যাচাই করতে পারছে না। আবার এআই কন্টেন্ট নিয়ে সাধারণ মানুষের ধারণাও পর্যাপ্ত নয়।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘শহরে যতটা এআই ব্যবহার করা যায়, কিন্তু গ্রামের মানুষ এআই সম্পর্কে এতটা অবগত নয়।’ অন্য একজন বলেন, ‘রাজনৈতিক আলোচনা-সমালোচনা দেখতে চেয়েছি, প্রতিহিংসা দেখতে চাইনি। কিন্তু এআইয়ের মাধ্যমে একটা শ্রেণি, তারা কর্মই পেয়েছে এটা করার, ফেক ভিডিও বানাচ্ছে, যেগুলো আমাদের চোখের সামনে প্রিতিনিয়ত আসে। আমরা বুঝতে পারলেও অনেকেই হয়তো বুঝতে পারবে না, কোনটা এআই আর কোনটা আসল ভিডিও। সেক্ষেত্রে ভোটার ওপর একটা প্রভাব পড়বে।’
সরকারি কর্মকর্তারা কোনো পক্ষের হয়ে নির্বাচনি প্রচার করতে পারবেন না: ইসি সানাউল্লাহ
গেল অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর; তিন মাসে এক হাজার ৪৪১টি ভুল তথ্য শনাক্ত করেছে ফ্যাক্টচেক প্রতিষ্ঠান রিউমর স্ক্যানার। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, প্রায় দেড় হাজার ভুল তথ্যের মধ্যে ৯৫৬টিই ছিল রাজনৈতিক। এর মধ্যে কেবল ডিসেম্বরেই রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে ভুল তথ্য ছিল ৪৪৬টি।
এআই নিয়ে কাজ করা বাংলাদেশি গবেষক বলছেন, নির্বাচনের আগে অবশ্যই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এআই সংক্রান্ত একটি আইন করা উচিত ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের। এতে রাজনৈতিক অপপ্রচার ও নির্বাচনি গুজব অনেকটাই রোধ করা সম্ভব হতো বলেও মনে করেন তিনি।
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির আইরিক এআই ডিরেক্টর ড. খন্দকার এ. মামুন বলেন, ‘কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে, মানুষকে কনফিউজিং করা হচ্ছে, ফেক কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে, গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এআই এর মাধ্যমে ভালো কাজ যেমন করা যায়, তেমনি খারাপ কাজও করা যায়। এআই রেগুলেটরির কাজ হচ্ছে কোন কাজ আমরা এআই দিয়ে করতে পারবো, সেটা রাইট হবে। আর কোন কাজটা এআই দিয়ে করলে ভুল হবে, সেজন্য এআই রেগুলেটরি লাগবেই।’
আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকরা বলছেন, নির্বাচনে এআই সংক্রান্ত ভিডিও যাতে দ্রুত সনাক্ত করা যায় সেজন্য নির্বাচন কমিশনের আলাদা পোর্টাল চালু করা প্রয়োজন। যেখানে লিংক দিলেই যেন জানা যাবে ভিডিও বা ছবিটি আসল নাকি ভুয়া।
ঢাবি তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক শফিউল আলম বলেন, ‘প্রচারণাটা কিন্তু এবার চোখে পড়ছে না। এটা হয়তো কিছুটা কম। যেহেতু ডিজিটাল মিডিয়ার যুগ, সেজন্য সোশ্যাল মিডিয়াকে হেভিলি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ ধরনের ভুয়া নিউজের বিষয়গুলো যখন আসবে, তখন রেসপন্সিবল অথোরিটি থেকে কুইক রেসপন্স মেকানিজম থাকা দরকার।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নির্বাচনের আগে অল্প সময়ের মধ্যে যেহেতু বড় কোনো পদক্ষেপ নেয়া কঠিন, সেজন্য বড় ধরনের ষড়যন্ত্র রুখতে এআই নিয়ে সামাজিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। এজন্য নির্বাচন কমিশন, সরকারসহ রাজনৈতিক দলগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে বলে মত তাদের।
প্রযুক্তিবিদ সুমন আহমেদ সাবির বলেন, ‘সচেতনতা তৈরির জায়গায় আমাদের হয়তো একটু ঘাটতি ছিল। আরেকটু প্রচারণা করলে, হয়তো আরেকটু সচেতন করতে পারলে, এটার যে ক্ষতিকর প্রভাব, সেটা থেকে হয়তো বাইরে থাকতে পারতাম। এখনো সময় আছে, মনে হয় সে জায়গাটাকে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত। শেষ সময়ে এটা প্রতিরোধ করা বা বন্ধ করার চেষ্টা করে খুব বেশি সফলতা আসবে না।’
নির্বাচনের আগে এআইয়ের যে ব্যবহার সেটা বেড়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ ফেক ভিডিওই তৈরি হচ্ছে এআইয়ের মাধ্যমে। এতে নির্বাচন নানাভাবে ব্যাহত হতে পারে। তাই নির্বাচন কমিশনকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়ার ব্যাপারে আহ্বান করছেন বিশেষজ্ঞরা।
মন্তব্য (০)