• সমগ্র বাংলা

জামালপুরে বাহারি পিঠা উৎসব

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

জামালপুর প্রতিনিধি: পিঠার নাম শুনলেই জিভে জল আসে না এমন বাঙালি পাওয়া যাবে না। বিশেষ করে শীতে পিঠা বাঙালির জীবন ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। কিছুদিন আগেও শহুরে সংস্কৃতিতে পিঠার অবস্থান খুব নগণ্য হয়ে পড়েছিল। বিভিন্ন স্টলে বার্গার, পিত্জার জোয়ারে হারিয়েই যেতে বসেছিল পিঠা। কিন্তু ধীরে ধীরে ফিরে আসছে পিঠা। জামালপুরে সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী পিঠা উৎসব। মঙ্গলবার (২০ ফেব্রুয়ারী ) সকাল সাড়ে ১১ টায় সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ প্রাঙ্গণে কলেজ কতৃপক্ষের আয়োজনে পিঠা উৎসব শুরু হয়েছে। উৎসবের প্রথম দিন নারী ও শিশুদের ছিল ব্যাপক ভিড়।

শিশুরা পিঠা উৎসবে এসে নতুন নতুন পিঠার নাম জেনে আনন্দিত।উৎসব প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, পিঠা উৎসবে কলেজের সকল বিভাগের মোট ২৫টি স্টল সাজানো হয়েছে। এসব স্টলে নানা নামের ও স্বাদের বাহারি পিঠা নিয়ে পসরা সাজিয়ে বসেছেন উদ্যোক্তারা। স্টলগুলো কেউ ঘুরে বেড়াচ্ছে, কেউ আবার পিঠার স্বাদ নিচ্ছে।স্টলগুলোতে রয়েছে বাঙালি ঐতিহ্যের বাহারি রকমের পিঠা।

এর মধ্যে জামাই পিঠা, মেরা পিঠা, পাকন পিঠা, নুরের ঝাল পিঠা, পায়া পিঠা, পাটিসাপটা পিঠা, নকশি পিঠা, কাজু বরফি, জালি পিঠা, পিঠাসহ বিভিন্ন পিঠা রয়েছে। পিঠা উৎসবে আসা ইংরেজি বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সাকিব আল হাসান নাহিদ বলেন, শীতের সকালে এরকম পিঠা উৎসব আগে কখনো দেখিনি। প্রায় একশ রকমের বাহারি পিঠা রয়েছে।

এর মধ্যে বেশিরভাগ পিঠার নাম অজানা। সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী জুয়েল রানা বলেন, ফাল্গুনের এই শীতের সকালে কলেজ কর্তৃপক্ষ এত সুন্দর একটি সুন্দর পিঠা উৎসবের আয়োজন করেছে। আমরা বাহারি রকমের পিঠা দেখছি এবং পিঠা কিনেছি। এমন পিঠা উৎসবের আয়োজন প্রতিবছরের হওয়ার দাবি আমাদের। জামালপুর সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. হারুন অর রশীদ বলেন, বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নয়, দেশীয় সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দিতে ও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে এই পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

বাঙালির নিজস্ব পিঠার যে ঐতিহ্য রয়েছে সেই বিষয়গুলো বৃহত্তর পরিসরে উপস্থাপন করার জন্যই  আমাদের এ আয়োজন। জানা গেছে, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ছড়িয়ে দিতেই শীতকালীন এই পিঠা উৎসবের আয়োজন করেন কলেজের সকল বিভাগের শিক্ষার্থীরা। বাহারী পিঠা নিয়ে বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং সাংষ্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এ উৎসব।

মন্তব্য (০)





  • company_logo