• লিড নিউজ
  • জাতীয়

বাঁওড়ে মাছ উৎপাদন ১০ শতাংশ বৃদ্ধির উদ্যোগ সরকারের

  • Lead News
  • জাতীয়

ছবিঃ সংগৃহীত

নিউজ ডেস্কঃ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চার জেলার ২৯টি বাঁওড়ে মাছের উৎপাদন বাড়ানো এবং মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে ৪৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৫ বছর মেয়াদি একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মৎস্য উৎপাদন অন্তত ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
‎
‎দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চার জেলার মধ্যে রয়েছে যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়া। দীর্ঘ ১৫ বছর পর এসব জেলায় এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘নির্বাচিত বাঁওড় এলাকায় সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের মাধ্যমে বাঁওড় বা মরা নদীগুলো খনন, মাছের অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা, পোনা উৎপাদন অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ ও সমাজভিত্তিক ব্যবস্থাপনা জোরদারের পরিকল্পনা রয়েছে।
‎
‎২০২৫ সালে যশোরের তৎকালীন জেলা প্রশাসক ওই অঞ্চলের বাঁওড়গুলোতে মাছের উৎপাদন বাড়াতে প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেন। ওই বছরের ডিসেম্বরে জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় প্রকল্প গ্রহণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। প্রকল্পের জনবল কাঠামো অনুমোদনের জন্য অর্থ বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়। বর্তমান সরকারের সময়ে জনবল কাঠামোর অনুমোদন পাওয়ার পর প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে।
‎
‎প্রকল্পের আওতায় পলি জমে ভরাট হয়ে যাওয়া বাঁওড়ের নির্দিষ্ট অংশ খনন করে গভীরতা ও পানি ধারণক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ খাতে ১১ কোটি ২১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এর ফলে শুষ্ক মৌসুমেও মাছের বসবাস ও বেড়ে ওঠার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হবে।
‎
‎দেশীয় প্রজাতির মাছ সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক প্রজনন নিশ্চিত করতে ২৯টি বাঁওড়ে অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠায় ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যমান ৩৫টি পোনা উৎপাদন পুকুর সংস্কারে ১ কোটি ৭৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকা, খামার যান্ত্রিকীকরণে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং পানি সরবরাহের জন্য ছয়টি গভীর নলকূপ স্থাপনে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
‎
‎প্রস্তাবিত প্রকল্পে বাঁওড় ব্যবস্থাপনা, প্রশিক্ষণ, পোনা সরবরাহ ও সম্প্রসারণ সেবার অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ হিসেবে জরাজীর্ণ ৬টি বাঁওড় ব্যবস্থাপকের অফিস ভবন পুননির্মাণে ৭ কোটি ৩১ লাখ ৮ হাজার টাকার উল্লেখ করা হয়েছে। পাঁচ বছরে ২৯০টি বিল নার্সারি স্থাপনে ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা এবং রুই ও দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্তকরণে পৃথকভাবে ৭ কোটি ৬১ লাখ ৯৩ হাজার টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। বিল নার্সারির মাধ্যমে পোনা লালন-পালন ও উৎপাদন কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি নির্ধারিত জলাশয়ে পোনা অবমুক্ত করে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রকল্পের সরঞ্জাম খাতে ৮ লাখ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।
‎
‎প্রস্তাবিত প্রকল্পে জলাশয় খনন, অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা, পোনা উৎপাদন, পানি সরবরাহ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের মতো কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মাধ্যমে শুধু মাছের উৎপাদন বাড়ানো নয়, বরং বাঁওড়ের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে টেকসই মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
‎
‎মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, বাঁওড়গুলোতে মাছের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় মৎস্যজীবীদের সম্পৃক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য। নির্বাচিত জলাশয় চিহ্নিত করে অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা, মাছের নিরাপত্তায় নজরদারি এবং স্থানীয় মানুষকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
‎
‎তিনি বলেন, ‘অভয়াশ্রমের নির্ধারিত এলাকায় মাছ আহরণ নিয়ন্ত্রিত থাকবে, যাতে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়। বর্ষা মৌসুমে মাছ আশপাশের নদী ও বিলে ছড়িয়ে পড়লে সেখান থেকে স্থানীয় জেলেরা মাছ আহরণ করতে পারবেন। এর মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যজীবীদের জীবিকায় দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
‎
‎মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ড. মো. খালেদ কনক বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চার জেলার বাঁওড় বা মরা নদীতে মাছ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দরিদ্র মৎস্যজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এর ফলে ওই এলাকার মানুষের সঙ্গে সরকারের একটি সম্পর্ক তৈরি হবে।
‎
‎তিনি বলেন, অনেক বাঁওড় অগভীর হয়ে যাওয়ায় মাছের বসবাস ও উৎপাদনের পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে জলাশয়ের উন্নয়ন এবং সমাজভিত্তিক ব্যবস্থাপনার কার্যকর কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
‎
‎তিনি বলেন, বাঁওড়ের প্রকৃত মৎস্যজীবীদের একটি তালিকা তৈরি করাও প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য। নব্বইয়ের দশকে গঠিত মৎস্যজীবী সমিতিগুলোর সদস্যতালিকা দীর্ঘদিন ধরে হালনাগাদ হয়নি। প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অন্তর্ভুক্তি, তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং মাছ আহরণের সুফল সুষমভাবে বণ্টনের সুযোগ তৈরি হবে।
‎
‎সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাঁওড়ের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় জেলেদের জীবিকা ও আয় বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হবে। মাছের উৎপাদন অন্তত ১০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য অর্জিত হলে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও এর সুফল অব্যাহত থাকবে।

মন্তব্য (০)





image

‎জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিশেষ দোয়া মাহফিলে ডেপ...

১

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস ২০২৬ উদযাপন উপলক...

image

সমবায় আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

২

নিউজ ডেস্কঃ  সমবায় আন্দোলনকে পুনরুজ্জীবিত করতে সমবায় সম...

image

সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় সাত বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রধানমন্...

৩

নিউজ ডেস্কঃ  সৌদি আরবে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় সাত বাং...

image

ঝিনাইদহের জামায়াতের এমপিরা সঠিকভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পার...

৪

নিউজ ডেস্কঃ  ঝিনাইদহ থেকে নির্বাচিত জামায়াতে ইসলামীর এম...

image

ঝিনাইদহের জামায়াতের এমপিরা সঠিকভাবে প্রতিনিধিত্ব করতে পার...

৫

নিউজ ডেস্কঃ  ঝিনাইদহ থেকে নির্বাচিত জামায়াতে ইসলামীর এম...

  • company_logo