নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী ও ভাওয়াইয়া গানের সম্রাট আব্বাসউদ্দীন আহমদের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সংগীতানুষ্ঠান ‘ওকি গাড়িয়াল ভাই’ এ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে আব্বাসউদ্দীন আহমদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ভাওয়াইয়া গানের সম্রাট আব্বাসউদ্দীন আহমদ তাঁর অসামান্য কণ্ঠ ও সুরের জাদুতে উত্তরাঞ্চলের মাটি ও মানুষকে বিশ্বদরবারে পরিচিত করেছেন। তাঁর গানে বাংলার প্রকৃতি, নদী, জনজীবন ও মানুষের সুখ-দুঃখ জীবন্ত হয়ে উঠেছে। দেশের অসংখ্য নদ-নদীর অনেকগুলো আজ শুকিয়ে গেলেও আব্বাসউদ্দীনের গানের মধ্য দিয়ে সেগুলো বাংলার সংগীত ও সংস্কৃতিতে অমর হয়ে আছে।
মন্ত্রী বলেন, আব্বাসউদ্দীনের মতো কিংবদন্তি শিল্পীদের সৃষ্টিকে সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমাদের সাংস্কৃতিক দায়িত্ব। এ লক্ষ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেশীয় লোকসংস্কৃতির চর্চা, সংরক্ষণ ও বিকাশে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।
তিনি বলেন, ভাওয়াইয়া গানের ঐতিহ্যকে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে একটি বৃহৎ পরিসরের ভাওয়াইয়া উৎসব আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। নজরুল বর্ষে দেশব্যাপী ব্যাপক কর্মসূচি এবং কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন স্থানে লালন উৎসব ও লালনভক্তদের মিলনমেলার মতো আয়োজনের মাধ্যমে দেশের সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতিকে জনগণের কাছে আরও বিস্তৃতভাবে তুলে ধরতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, জীবনবিমুখ ও শিকড়বিচ্ছিন্ন অপসংস্কৃতির প্রভাব মোকাবিলায় দেশীয় সংস্কৃতি ও বিনোদনের ঐতিহ্যবাহী মাধ্যমগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা প্রয়োজন। এ জন্য দেশব্যাপী যাত্রা, সার্কাস, নৌকাবাইচসহ ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক আয়োজন আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিকাশে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আব্বাসউদ্দীন আহমদের অমর চসংগীতকর্ম সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, তাঁর গান শুধু সংগীত নয়, এটি বাঙালির লোকজ জীবন ও ঐতিহ্যের মূল্যবান দলিল। তাঁর সৃষ্টিকে যথাযথভাবে সংরক্ষণ করে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম বলেন, সময় বদলে গেলেও আব্বাসউদ্দীন আহমদের অমর সুরের আবেদন কখনো হারিয়ে যায় না। তাঁর গান বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতির এক অনন্য সম্পদ। লোকসংস্কৃতির সব উপাদান সংরক্ষণ, চর্চা ও বিকাশে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে আব্বাসউদ্দীন আহমদ-এর জীবন, কর্ম ও সংগীত নিয়ে মূল আলোচনা করেন সংগীতশিল্পী অধ্যাপক ড. নাশিদ কামাল।
তিনি আব্বাসউদ্দীনের সংগীতজীবন ও অবদানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বিশেষ করে কাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে আব্বাসউদ্দীনের ঘনিষ্ঠতা ও সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নজরুলের ইসলামী সংগীত রচনায় আব্বাসউদ্দীনের ভূমিকা ও প্রেরণা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক আশরাফ উদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল।
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মোহা. হারুন অর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী, গবেষক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা পর্ব শেষে দেশবরেণ্য শিল্পীরা আব্বাসউদ্দীন আহমদের কালজয়ী গান পরিবেশন করেন।
সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
মন্তব্য (০)