ছবিঃ সংগৃহীত
নিউজ ডেস্ক : পেটব্যথা, পেট ফাঁপা, বদহজম কিংবা বুকজ্বালার সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। এসব সমস্যার কারণ হতে পারে গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য, ডায়রিয়া, হজমের গোলমাল কিংবা নির্দিষ্ট কোনো খাবারে অ্যালার্জি। কিছু ক্ষেত্রে ঘরোয়া যত্নে অস্বস্তি কমতে পারে। তবে পেটব্যথার কারণ অনুযায়ী করণীয়ও আলাদা। তাই ব্যথা দীর্ঘস্থায়ী হলে বা তীব্র আকার ধারণ করলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
পেটব্যথা কমাতে ১২টি ঘরোয়া উপায়
১. পর্যাপ্ত পানি পান: শরীরের পানিশূন্যতা হজমের প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তাই পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। এতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও কিছুটা কমতে পারে।
২. খাওয়ার পরপরই শুয়ে না পড়া: খাবার খাওয়ার পরপর শুয়ে পড়লে পাকস্থলীর অ্যাসিড খাদ্যনালিতে উঠে বুকজ্বালা সৃষ্টি করতে পারে। তাই খাওয়ার পর অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা সোজা হয়ে থাকা ভালো।
৩. আদা খেতে পারেন: আদা বমি বমি ভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে। আদা দিয়ে চা তৈরি করে পান করা যায়। তবে সবার ক্ষেত্রে এটি সমান কার্যকর নাও হতে পারে।
৪. সহজপাচ্য খাবার খান: কলা, সাদা ভাত, আপেল সেদ্ধ বা চটকে তৈরি খাবার এবং টোস্ট পেটের অস্বস্তির সময় খাওয়া যেতে পারে। ডায়রিয়া হলে এগুলো সহনীয় হতে পারে। তবে শুধু এই খাবারগুলোর ওপর নির্ভর না করে পুষ্টিকর খাবারও খেতে হবে।
৫. ধূমপান ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন: এসব অভ্যাস বদহজম ও অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সমস্যা বাড়াতে পারে।
৬. ভারী ও ঝাল খাবার কমান: অতিরিক্ত তেল-চর্বি, ঝাল ও টক খাবার অনেকের বদহজম বাড়িয়ে দিতে পারে। কোন খাবারে সমস্যা হচ্ছে, তা খেয়াল রাখুন।
৭. বেকিং সোডা ব্যবহারে সতর্কতা: এটি সাময়িকভাবে পাকস্থলীর অ্যাসিড কমাতে পারে। তবে অতিরিক্ত গ্রহণে বমি, ডায়রিয়া, পেশিতে খিঁচুনি ও শ্বাসের সমস্যা হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি ব্যবহার না করাই ভালো।
৮. ডুমুর: ডুমুরে থাকা আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে ডায়রিয়া হলে এটি এড়িয়ে চলুন।
৯. অ্যালোভেরা: অ্যালোভেরার রস হজমের কিছু সমস্যায় উপকারী হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তবে এর কার্যকারিতা নিয়ে পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। এটি খেলে কারও কারও পেটব্যথা বা পেশিতে টান ধরতে পারে।
১০. তুলসী: তুলসীতে থাকা কিছু উপাদান প্রদাহ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে পেটব্যথা নিরাময়ে এর কার্যকারিতার প্রমাণ সীমিত।
১১. যষ্টিমধু: যষ্টিমধু দিয়ে তৈরি চা কিছু হজমজনিত অস্বস্তি কমাতে পারে। তবে এটি রক্তচাপ বাড়াতে এবং শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা কমাতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি বা হৃদ্রোগ থাকলে বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।
১২. সাদা ভাত: ডায়রিয়া বা কিছু হজমজনিত সমস্যায় সাদা ভাত সহজে সহ্য হতে পারে। তবে খাবারের বৈচিত্র্য বজায় রাখা জরুরি।
কখন চিকিৎসক দেখাবেন?
পেটব্যথার কারণ গ্যাস বা বদহজম ছাড়াও অ্যাপেন্ডিসাইটিস, অন্ত্রে বাধা, অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ, কিডনিতে পাথর কিংবা হৃদ্রোগ হতে পারে। তাই ব্যথা না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
হঠাৎ তীব্র পেটব্যথা, রক্তবমি, কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা, বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, জন্ডিস কিংবা প্রস্রাব-পায়খানা বন্ধ হয়ে গেলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিতে হবে। অকারণে ওজন কমে যাওয়া বা ক্ষুধামন্দা হলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সূত্র: মেডিকেল নিউজ টুডে
নিউজ ডেস্ক : রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়া নিয়ে উদ...
লাইফস্টাইল ডেস্কঃ ভিটামিন সি-এর কথা উঠলেই প্রথমে কমলার নাম ম...
লাইফস্টাইল ডেস্ক: শীতের আনুষ্ঠানিক আগমন ঘটতে এখনো কিছুট...
নিউজ ডেস্ক :
ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমিয়ে ফেললে মাত্র সাত দিনেই আপনার গেঁটে বা...
লাইফস্টাইল ডেস্ক: মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিভিন্ন বিষয় প্রভাব...

মন্তব্য (০)