• লিড নিউজ
  • আন্তর্জাতিক

‎আইনজীবী ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাসনের ঝুঁকিতে অভিবাসী শিশুরা

  • Lead News
  • আন্তর্জাতিক

ছবিঃ সংগৃহীত

নিউজ ডেস্কঃ যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার একটি অভিবাসন আদালতে এক বছরের একটি শিশু টলতে টলতে ঘুরে বেড়াচ্ছে আর কাঁদছে। একপর্যায়ে সে একটি খেলনা ছুড়ে দেয়, যা অল্পের জন্য একজন সরকারি কৌঁসুলির গায়ে লাগেনি।
‎
‎বিচারক শিশুটির ১৭ বছর বয়সী মাকে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করতে বলেন। কিন্তু কিশোরী মা এতটাই অস্থির ছিলেন যে বিচারক কী বলছেন, তা ঠিকমতো বুঝে ওঠাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়ছিল।
‎
‎অনাথ বা অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তা দেওয়া একটি সংগঠনের উপপরিচালক রক্সানা আভিলা-সিম্পিয়ানু আগস্টে ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করেন।
‎
‎তিনি এএফপিকে বলেন, ‘এই শিশুটির কাছ থেকে আশা করা হচ্ছে, সে নিজেই নিজের জন্য আশ্রয়ের আবেদন করবে, একই সঙ্গে এক বছরের শিশুটির জন্য কীভাবে আবেদন করতে হবে সেটিও তাকে বের করতে হবে। অথচ সে নিজেই আটক অবস্থায় থাকা এক তরুণ মা হিসেবে চরম মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।’
‎
‎অভিবাসন-আইনজীবীদের সংগঠন ও অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের সহায়তা দিয়ে আসা অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়ন বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের জায়গায় এমন কিছু প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, যাদের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা নেই।
‎
‎ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা চলতি সপ্তাহে স্বাস্থ্য ও মানবসেবা মন্ত্রণালয়ে দেওয়া এক চিঠিতে বলেন, ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এই জনগোষ্ঠীর দায়িত্ব এমন প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে, যাদের এ কাজের জন্য প্রয়োজনীয় যোগ্যতা স্পষ্টতই নেই—এ নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’
‎
‎অভিবাসী শিশুদের দেখভালের দায়িত্ব ঐতিহ্যগতভাবে অফিস অব রিফিউজি রিসেটলমেন্ট (ওআরআর)-এর ওপর রয়েছে।
‎
‎‘অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক’ বলতে সাধারণত এমন শিশুদের বোঝানো হয়, যারা কোনো প্রাপ্তবয়স্ক অভিভাবক ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করে। আবার এমন শিশুরাও এর আওতায় পড়ে, যাদের বাবা-মাকে অভিবাসন কর্মকর্তারা আটক করেছেন এবং শিশুরা আশ্রয়কেন্দ্র বা সরকারি হেফাজতে রয়েছে।
‎
‎শিশুদের ওপর ‘আক্রমণ’
‎
‎২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের বহিষ্কারে কঠোর অভিযান শুরু করেন। এ অভিযানে কখনো কখনো সহিংসতাও দেখা গেছে।
‎
‎গত বছর ট্রাম্প প্রশাসন ওআরআরের অর্থায়নে পরিচালিত একটি জাতীয় নেটওয়ার্কের অর্থ বন্ধের উদ্যোগ নেয়। এই নেটওয়ার্কের আওতাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো বহু বছর ধরে অভিভাবকহীন অভিবাসী শিশুদের আইনি সহায়তা দিয়ে আসছিল।
‎
‎একটি মামলার পর ফেডারেল আদালতের একজন বিচারক ওই অর্থ বন্ধের সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন। তিনি ২০০৮ সালের একটি আইনে বাধ্যতামূলক করা এসব আইনি সেবা চালু রাখার নির্দেশ দেন।
‎
‎কয়েক মাস পর সরকার আবার অর্থ দেওয়া বন্ধ করে দেয়। এরপর ২০২৬ সালের জুলাইয়ে প্রায় ১০০টি প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে গঠিত নেটওয়ার্কটি পরিচালনাকারী অ্যাকাসিয়া সেন্টার ফর জাস্টিস-এর সঙ্গে সরকারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়।
‎
‎আভিলা-সিম্পিয়ানু জানান, ২০২৫ সালের শেষ দিকে সরকার প্রায় ২০ হাজার শিশুর গোপনীয় তথ্য প্রকাশের শর্তে অর্থায়ন অব্যাহত রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু তারা সেই তথ্য দিতে রাজি হয়নি।
‎
‎এরপর সরকার এসব মামলার দায়িত্ব বার্ক ল গ্রুপ-এর হাতে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। প্রতিষ্ঠানটি ট্রাম্প প্রশাসনের সাবেক এক কর্মকর্তার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়। তবে পরে প্রতিষ্ঠানটি ওই চুক্তির জন্য দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাহার করে।
‎
‎এরপর সরকার আওয়ার রেসকিউ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করে। সংগঠনটি মানবপাচারবিরোধী এক বিতর্কিত অধিকারকর্মী প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর নেতৃত্বে রয়েছেন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা আইসিই-এর সাবেক এক তদন্ত কর্মকর্তা।
‎
‎তবে কংগ্রেসে প্রশ্ন ওঠার পর এবং এ কাজে বরাদ্দ ফেডারেল অর্থের পর্যালোচনা শুরু হওয়ায় চুক্তিটি স্থগিত করা হয়।
‎
‎ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতারা তাদের চিঠিতে বলেন, ‘শিশুদের আইনি সুরক্ষা কখনোই রাজনৈতিক আনুকূল্য দেওয়ার হাতিয়ার হওয়া উচিত নয়।’
‎
‎আভিলা-সিম্পিয়ানুর অভিযোগ, প্রশাসন শিশুদের পক্ষে আইনি লড়াইকে কঠিন করে তুলছে, ‘যাতে যত দ্রুত সম্ভব যত বেশি সংখ্যক শিশুকে বহিষ্কার করা যায়।’
‎
‎তিনি বলেন, ‘আমি ১০ বছর ধরে এই কাজ করছি। শিশুদের বিরুদ্ধে সরকারের এমন সমন্বিত পদক্ষেপের দিক থেকে এটাই আমার দেখা সবচেয়ে খারাপ সময়।’
‎
‎আদালতে শিশুরা
‎
‎তিনি বলেন, অভিভাবকহীন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশুদের অভিবাসন আদালতে হাজির হওয়া খুবই সাধারণ ঘটনা। তাই এ ধরনের বিষয়ে অভিজ্ঞ একজন আইনজীবী থাকা জরুরি। শিশুটি ইংরেজি না জানলে আইনজীবীর তার ভাষা জানা আরও গুরুত্বপূর্ণ।
‎
‎২০১৮ সালের একটি ঘটনার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তখন তার সংগঠন কয়েক মাস বয়সী একটি শিশুর হয়ে আদালতে উপস্থিত হয়েছিল।
‎
‎তিনি বলেন, ‘আমাদের বলতে হয়েছিল—এই শিশু অভিযোগ অস্বীকার করছে। এই শিশু স্বেচ্ছায় নিজ দেশে ফিরে যেতে চায়।’
‎
‎তিনি বলেন, ‘শিশুদের সঙ্গে এমন আচরণ করা হাস্যকর, যেন তারা প্রাপ্তবয়স্ক। কিন্তু এটাই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ।’
‎
‎এ সপ্তাহে সিএনএন জানিয়েছে, টেক্সাসের একটি আদালতে ২৫ জন অভিবাসী শিশুর শুনানি হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের কোনো আইনজীবী ছিল না।
‎
‎এএফপিকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ওআরআর জানায়, আগস্টে তারা বছরের শেষ পর্যন্ত ইউএস কমিটি ফর রিফিউজিস অ্যান্ড ইমিগ্র্যান্টস (ইউএসসিআরআই)-কে অর্থায়ন করেছে, যাতে তারা অভিবাসন আদালতের শুনানিতে শিশুদের পক্ষে উপস্থিত থাকতে পারে।
‎
‎ওআরআর বলেছে, ‘ইউএসসিআরআই শতভাগ শুনানিতে উপস্থিত থাকছে এবং আইনি পরামর্শ, আইনি বিষয়ে দিকনির্দেশনা এবং সরাসরি আইনি প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার সক্ষমতা বাড়িয়েছে।’
‎
‎অ্যাকাসিয়ার মুখপাত্র বিলাল আসকারিয়ার বলেন, ইউএসসিআরআই তুলনামূলকভাবে ছোট একটি প্রতিষ্ঠান। সেখানে প্রায় ৫০ জন আইনজীবী রয়েছেন। বিপরীতে অ্যাকাসিয়ার নেটওয়ার্কে আইনজীবীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮০০।
‎
‎তিনি বলেন, ‘এটি আমাদের কোনো চুক্তি নিয়ে বিরোধ নয়। কোনো প্রতিষ্ঠান ও সরকারের মধ্যকার বিরোধও নয়। বিষয়টি হলো সেই ২০ হাজার শিশু, যারা নিরাপত্তার আশায় যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিল।’

মন্তব্য (০)





image

‎৭ শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে হরমুজ: ইরান

১

নিউজ ডেস্কঃ ইরানের সাতটি শর্ত পূরণ 'না' হওয়া পর্যন্ত...

image

বারমুডায় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স নিখোঁজ, চলছে অভিযান

২

নিউজ ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের ন্যানটাকেট উপকূলের কাছে ছয়জন আরো...

image

ইসরাইলের অস্ত্র রপ্তানি বেড়েছে ১৩০ শতাংশ, বড় ক্রেতা আমিরাত

৩

নিউজ ডেস্ক : চারপাশে যুদ্ধ-বিগ্রহ আর সংঘাতের মধ্যেও বিশ্ববাজ...

image

ভেঙে পড়েছে ফ্রান্সের শিক্ষাব্যবস্থা, শিক্ষার্থীদের বিক্ষো...

৪

নিউজ ডেস্ক : ফ্রান্সজুড়ে স্কুল শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ আরও সহি...

image

পাকিস্তানের বাধায় দেরি, অবশেষে এল ইউরেনিয়াম

৫

নিউজ ডেস্ক : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য রাশিয়া থ...

  • company_logo