বেনাপোল প্রতিনিধি : যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে হঠাৎ করেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে।
বুধবার বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম বলেন, মন্ত্রণালয় ও মৎস্য অধিদপ্তরের পত্র মোতাবেক ২২সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ ইলিশ আমদানি বন্ধ করা হয়েছে। ২১ সেপ্টেম্বরের পরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে কোন ইলিশ প্রবেশ করেনি।চলতি বছরের জুলাই, অগাস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৫৫৩ মেট্রিক টন ইলিশ এসেছে। যার আমদানি (এলসি) মুল্য ৯লাখ ১০হাজার ডলার।
এর আগে মৎস্য অধিদপ্তর ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিল করায় এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে জানান তিনি।
বেনাপোল স্থলবন্দর ফিশারিজ কোয়ারেন্টাইন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বছরের প্রথম দুই মাসে আমদানি করা ইলিশের ঘোষিত মূল্য ৬ কোটি ৯২ লাখ ৯৪ হাজার ৫১০ টাকা। জুলাইয়ে ২৯ হাজার ৪৪০ কেজি ইলিশের আমদানি মূল্য ছিল ৩৫ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৬ টাকা। অগাস্টে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৬ কেজি মাছের ঘোষিত মূল্য দাঁড়ায় ৬ কোটি ৫৭ লাখ ৪৫ হাজার ৭১৪ টাকা।
জুলাই ও অগাস্টে মোট ১৯টি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভারত থেকে ইলিশ এনেছে। জুলাইয়ে তিনটি এবং অগাস্টে ১৯টি প্রতিষ্ঠান এই আমদানি করেছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিল করা হয়। এরপর থেকেই ভারত থেকে ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়া বন্ধ রয়েছে। তবে হঠাৎ ইলিশ আমদানি বন্ধের নির্দিষ্ট কারণ মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।
তবে বিভিন্ন মহলের ধারণা, আমদানি করা ভারতীয় ও মিয়ানমারের ইলিশকে দেশীয় বা পদ্মার ইলিশ হিসেবে বিক্রি করে ক্রেতাদের সঙ্গে প্রতারণা, কম মূল্য দেখিয়ে আমদানির মাধ্যমে অর্থপাচারের সম্ভাবনা এবং দেশীয় ইলিশ উৎপাদনে আগ্রহ বাড়াতে আমদানি নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এদিকে হঠাৎ ইলিশ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেছেন আমদানিকারকরা। তবে দেশিয় ইলিশ ব্যবসায়ীরা বলছেন এবার আমরা দেশিয় ইলিশ বিক্রি করতে পারবো, যা ক্রেতারা প্রকৃত ইলিশের স্বাদ পাবে।
বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, তুলনামূলক বেশি লাভের আশায় সাম্প্রতিক সময়ে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বেড়ে যায়। আমদানির সময় প্রতি কেজি ইলিশের মূল্য ৪৮ সেন্ট থেকে ২ মার্কিন ডলার পর্যন্ত দেখানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান। পরে নির্ধারিত রাজস্ব পরিশোধ করে বন্দর থেকে ইলিশ ছাড় করা হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতিকেজি প্রায় ৫০০ টাকার মধ্যে আমদানি করা ইলিশ বাজারে পদ্মার ইলিশ হিসেবে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি করা হয়েছে এমন অভিযোগ রয়েছে।
সাধারণ ক্রেতা আশিকুর রহমান জানান, আমদানি করা ভারতীয় ইলিশ দেখতে অনেকটা বাংলাদেশের পদ্মার ইলিশের মতো হওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। স্বাদে পার্থক্য থাকলেও বাহ্যিকভাবে মিল থাকায় ক্রেতারা দেশি ইলিশ ভেবে ভারতীয় ইলিশ কিনছেন।
ইলিশ আমদানিকারক সৈয়দ মহিদুল হক রুবাই বলেন, হঠাৎ আমদানি বন্ধ করায় আমরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছি। আমদানির উদ্দেশে ওপারে ইলিশ কিনে রাখা হয়েছিল। এখন কম দামে তা ফেরত দিতে হবে। এ ছাড়া আমদানি খরচের লোকসান তো রয়েছেই।
বেনাপোলের মৎস্য ও মান নিয়ন্ত্রণ অফিসের পরিদর্শক আসাওয়াদুল ইসলাম বলেন, মৎস্য অধিদফতরের নির্দেশনায় ইলিশ আমদানি বন্ধ রাখা হয়েছে।
আমদানি বন্ধ হওয়ায় বেনাপোলের বাজারে ভারতীয় ইলিশের সরবরাহও বন্ধ রয়েছে। চলতি বছরের জুলাই, অগাস্ট ও ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৫৫৩ মেট্রিক টন ভারতীয় ইলিশ আমদানি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
মৎস্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশে ১ হাজার ৭৩৯ দশমিক ৫০ টন ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে গতকাল পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ৫৫৩ মেট্রিক টন ইলিশ আমদানি হয়েছে। ১০৩টি অনাপত্তি সনদ বাতিলের পর অবশিষ্ট অনুমোদনের আওতায় ইলিশ আমদানি হবে কিনা সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনার অপেক্ষায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন জানান, বুধবার সকাল থেকে কোন ভারতীয় ইলিশ মাছ বেনাপোল বন্দরে প্রবেশ করেনি। শুনেছি মৎস্য অধিদপ্তর থেকে আমদানিকারকদের অনাপত্তি বাতিল করায় কেউ আমদানি করতে পারেনি। #
মন্তব্য (০)