নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি : জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনির্মিত কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজ ভবন- এর উদ্বোধনী ফলক উম্মোচন ও ফিতা কাটার মাধ্যমে শুভ উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজ পরিচালনা কমিটি সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১:০০ ঘটিকায় ভবনটির উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধন শেষে সংক্ষিপ্ত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন বলেন, ‘বাংলা প্রবাদ আছে ‘বাতির নিচে অন্ধকার’। তবে এই প্রবাদ এখন বদলে গেছে, বর্তমান বৈদ্যুতিক বাতির নিচে অন্ধকার থাকে না। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুলের অবস্থাও তেমনি বদলে গেল। যেকোন বিষয়ের ভিত্তি যদি ভালো না হয় তাহলে পরবর্তী অংশও ভালো হবে না। তাই আমরা শিক্ষার ভিত্তি প্রাথমিক স্তর থেকেই গুরুত্ব দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদের ভালো স্কুলে শিক্ষার জন্য ক্যাম্পাস ছেড়ে দূরে অবস্থান করতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসমূখী করতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয় তাদের থেকে অনেক বেশি সেবা নিতে পারবে। এই স্কুল গতাণুগতিক স্কুলের চেয়ে অনেক ভালো হবে এবং একটি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আমি আশা করছি। তবে শুধু অবকাঠামোগত এবং শিক্ষকদের মাধ্যমে শিক্ষা দিলেই হবে না, বাসায় শিক্ষাদানে অভিভাবকদেরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
প্রধান অতিথি আরও বলেন, ‘আমরা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সন্তানদেরই শিক্ষার সুযোগ দিচ্ছি এমন না, এলাকাবাসীও তাদের সন্তানদের ভর্তি করতে পারবেন। সবার জন্য উম্মুক্ত থাকবে এবং সবাই সমান সুযোগ পাবে। অনেক নামী-দামী স্কুলে পড়ানোর ব্যয় অনেক তবে আমরা অভিভাবকদের যেন কষ্ট না হয় সেই দিক বিবেচনায় নিয়ে ব্যয় নির্ধারণ করবো। স্কুল এন্ড কলেজটি সম্পূর্ণ নিরাপত্তা বলয়ে বেষ্টিত। সুতরাং আপনাদের সন্তান এখানে দিয়ে আপনারা নিশ্চিন্তে থাকতে পারবেন। স্কুল এন্ড কলেজের সকল বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা থাকবে তবে আপনাদেরও সহযোগিতায় এগিয়ে আসতে হবে।’
স্কুলের বিদ্যমান অবস্থা উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, ‘এই স্কুলে ৫জন শিক্ষক পাঠদান করছেন। তারা অবৈতনিকভাবে পাঠদান করছেন। তাদের যদি আমরা বেতন না দেই তাহলে তাদের কাছ থেকে মানসম্মত শিক্ষা কীভাবে আশা করবো? তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ ও আবেদন করে ইতোমধ্যেই অনুমোদন নিয়েছি। আশা করি দ্রুতই সরকারিকরণ সম্ভব হবে।’
উদ্বোধন শেষে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন ও কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রফেসর ড. সাখাওয়াত হোসেন সরকার, পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়ার্কস দপ্তরের পরিচালক মো. হাফিজুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসনাত জাহান খান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমান। এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এ এইচ এম কামাল, চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ (রাশেদ-সুখন), বিভিন্ন বিভাগীয় ও দপ্তর প্রধান, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা-কর্মী, শিক্ষার্থীবৃন্দ, বিভিন্ন পর্যায়ের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও উচ্চতর ব্যাংক কর্মকর্তা ও অভিভাবকবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. মো. আশরাফুল আলম। কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজ ভবন উদ্বোধন শেষে স্কুল এন্ড কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মো. আব্দুল হাকীম।
উল্লেখ্, প্রতি তলায় ১১,৫০০ বর্গফুট আয়তনের পাঁচতলা ভীতের উপর পাঁচতলা বিশিষ্ট নবনির্মিত এই কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুল এন্ড কলেজ ভবন। ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই ভবনের কাজ সম্পন্ন করা হয়।
মন্তব্য (০)