নওগাঁ প্রতিনিধি: বগুড়ার আদমদীঘিতে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রকাশিত ফলাফলে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পরিবারের সদস্য ও ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে-এমন অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে তাদের।
উপজেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর ৪৫ দিনব্যাপী কার্যক্রমের জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ এবং মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণের সময়সূচি একাধিকবার পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুমারি পরীক্ষায় প্রায় ৮শত জন অধিক প্রার্থী অংশগ্রহণ করেন। তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে ৮৬ জনকে কৃতকার্য ঘোষণা করা হয়। গত ৬ আগস্ট মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ফলাফল প্রকাশের পরই নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি ওঠে।
অভিযোগকারীদের দাবি, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিটে কৃতকার্য ব্যক্তিদের মধ্যে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতাদের সন্তান এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদেরও পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে আদমদীঘি উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদকের মেয়ের নামও রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ফ্যামিলি কার্ড একটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। ফলে এ প্রকল্পের মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হলে প্রকল্পটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে। তবে নিয়োগপ্রাপ্তদের রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা তাদের পরিবারের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সান্তাহার পৌর ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি শাহিনুর রহমান সোহেল বলেন, “ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরাও নির্বাচনের সময় জনগণের কাছে গিয়ে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আমি নিজেও স্নাতকোত্তর পাস করে সুপারভাইজার পদে পরীক্ষার্থী ছিলাম। আরও অনেক শিক্ষিত ছাত্রদল ও যুবদল কর্মী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। কিন্তু ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেল আওয়ামী লীগ পরিবারের অনেক সদস্যকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।”
সান্তাহার পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ছাব্বির আলম সুমন বলেন, “অনেক ছাত্রদল ও যুবদল কর্মী, যাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা ভালো, তারা মৌখিক পরীক্ষায়ও ভালো করেছেন। এরপরও তারা কৃতকার্য হননি। বিষয়টি আমাদের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ মনে হয়েছে।”
সান্তাহার পৌর শ্রমিক দলের সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, “আমরা শনিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গণস্বাক্ষরসহ লিখিত অভিযোগ দাখিল করব। চিহ্নিত আওয়ামী লীগ পরিবারের ব্যক্তিদের নিয়োগ বাতিলের দাবি জানানো হবে। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত প্রকল্পে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের দোসরদের নিয়োগ মেনে নেওয়া হবে না।”
আদমদীঘি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আল-আমিন বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬ এ তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে ৮০০টির বেশি আবেদন জমা পড়ে। পরীক্ষা গ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর ৬ আগস্ট বৃহস্পতিবার ৮৬ জন কৃতকার্য সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারীর তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
মন্তব্য (০)