নীলফামারী প্রতিনিধি : তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং ৯ সদস্যবিশিষ্ট প্রকৌশলী দল। তিস্তা ব্যারেজ, সেচ ক্যানেল, নদীভাঙনকবলিত এলাকা ও নদীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শনের পর তারা আশা প্রকাশ করেন, কারিগরি মূল্যায়ন শেষে প্রকল্পটি দ্রুত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।
শুক্রবার সকালে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছে প্রতিনিধি দলটি তিস্তা অববাহিকার বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে। এ সময় তারা নদীর প্রবাহ, ভাঙন পরিস্থিতি, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাব্য দিকগুলো সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন। পরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের গেস্ট হাউসে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিস্তা মহাপরিকল্পনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত ৯ সদস্যের প্রকৌশলী দল বিস্তারিত পর্যালোচনা করছে। তাদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর দ্রুত প্রকল্পটি অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তিনি বলেন, সরকার তিস্তা অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে আন্তরিক। কারিগরি প্রতিবেদন হাতে পেলেই প্রকল্প বাস্তবায়নের পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়া হবে।
ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ১২ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। তবে দেশের নিজস্ব অর্থায়নেই ধাপে ধাপে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব। তিনি বলেন, প্রতি বছর নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে কয়েক ধাপে প্রকল্পটি সম্পন্ন করা যাবে। এটি বাস্তবায়িত হলে তিস্তা নদীকেন্দ্রিক নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
তিনি আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা শুধু নদীশাসন বা পানি ব্যবস্থাপনার প্রকল্প নয়; এটি উত্তরাঞ্চলের কৃষি, সেচ, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদীভাঙন প্রতিরোধ এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে এর সুফল কেবল তিস্তা তীরবর্তী জনগোষ্ঠী নয়, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
মতবিনিময় সভায় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী বলেন, তিস্তা অববাহিকার স্থায়ী সমাধান এবং উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন এখন সময়ের দাবি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দেশের শীর্ষ প্রকৌশলী, পানি সম্পদ বিশেষজ্ঞ এবং বুয়েটের গবেষকদের সমন্বয়ে প্রকল্পের কারিগরি বিষয়গুলো মূল্যায়ন করা হবে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য একনেকে পাঠানো হবে।
দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের সম্ভাবনায় নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন উত্তরাঞ্চলের মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, বারবার আলোচনায় সীমাবদ্ধ না থেকে এবার প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তিস্তা অববাহিকার দীর্ঘদিনের সমস্যার টেকসই সমাধান হবে।
মন্তব্য (০)