নীলফামারী প্রতিনিধি: স্কুল ফিডিং কর্মসুচির ফলে নীলফামারীর দুই উপজেলার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বেড়েছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, পড়াশোনায় মনোযোগ এবং স্কুলগুলোয় ফিরেছে প্রাণ চাঞ্চল্য।
এছাড়া শিক্ষার্থীদের পুষ্টিহীনতা রোধে বিশেষ সহায়ক হিসেবে কাজ করছে এই ফিডিং কর্মসুচি।
শিক্ষার্থীদের দেয়া হচ্ছে সিদ্ধ ডিম, বনরুটি, দুধ, কলা ও বিস্কিট।
সংশ্লিষ্ঠ সুত্র জানায়, জেলার কিশোরগঞ্জ ও জলঢাকা উপজেলার ৪২৩টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৪হাজার ৯১৫জন শিক্ষার্থীকে দেয়া হয়েছে এই খাবার।
এরমধ্যে জলঢাকা উপজেলার ২৪৮টি বিদ্যালয়ের ৩৫হাজার ৮০১জন এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলার ১৭৫টি বিদ্যালয়ের ১৯হাজার ১১৪জন শিক্ষার্থী রয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে উন্নয়ন সংস্থা ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন(ইএসডিও)।
জলঢাকা উপজেলা শহরের বগুলাগাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মালিহা ইসলাম জানান, আমি এখন নিয়মিত স্কুলে আসি এবং স্কুল শুরু হওয়ার আগেই এখানে পৌঁছি। বনরুটি, সিদ্ধ ডিম, বিস্কিট, কলা ও দুধ পেয়ে থাকি বিভিন্ন দিন।
একই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্ধী রাবেয়া আক্তার জানান, স্কুলে খাবার দেয়ার পর থেকে অনেক ভালো লাগে আমার। আগে স্কুলে আসতে অনীহা ছিলো এখন সেটি নেই। সারাদিন থাকলেও কোন সমস্যা হয় না। দুপুরে খাবার পেয়ে শরীরের ক্লান্তি দুর হয়ে যায়।
অভিভাবক শিল্পি আক্তার বলেন, এখন ঝড় বৃষ্টি যাই হোক বাড়িতে আর থাকতে চায়, ছাতা নিয়ে হলেও বিদ্যালয়ে দিয়ে আসতে হয়। পড়াশোনায় মনোযোগ বেড়েছে। আগে স্কুল পাঠাতে নানা সমস্যা হতো।
বগুলাগাড়ি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রেহেরা পারভীন জানান, স্কুল ফিডিং কর্মসুচি চালু হওয়ার পর থেকে উপস্থিতি বেড়েছে। শতকরা ৯০ ভাগেরও বেশি উপস্থিতি এখন।
বিদ্যালয়ে যেমন ফিরেছে প্রাণ চাঞ্চল্য তেমনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বেড়েছে মনোযোগ এবং আগ্রহ। এছাড়াও পুষ্টিহীনতা রোধে কাজ করছে সরকারের এই কর্মসুচি।
বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’র (ইএসডিও) প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর মো. শামসুল আলম বাবু জানান, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যালয়গুলোতে আমরা খাবার পৌঁছে দিয়ে থাকি।
গুণগত মান অক্ষুন্ন রাখতে টেকনিক্যাল কর্মকর্তা যাচাই বাছাই করে থাকেন। এই প্রকল্পের ফলে শিক্ষার্থীরা যেমন খুশি তেমনি শিক্ষাক্ষেত্রে দারুন প্রভাব ফেলছে।
বলেন, কোন অভিযোগ আসলে আমরা সেটি আমলে নিয়ে তাৎক্ষনিক ভাবে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করি।
জলঢাকা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুস সামাদ বলেন, এখন একটা পরিবেশ এসেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে। উপস্থিতি হার বিদ্যালয়ের পরিবেশ বদলে দিয়েছে। কর্মসুচির ফলে ঝড়ে পড়া যেমন রোধ হয়েছে তেমনি শিক্ষাঙ্গণকে করেছে আনন্দময়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম বলেন, দুই উপজেলায় স্কুল ফিডিং কর্মসুচি শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করছে। এর সুফল পাচ্ছে সবাই। তবে শুধু দুই উপজেলায় নয় গোটা জেলায় এই কর্মসুচি চালু হলে প্রাথমিক শিক্ষার মান যেমন বাড়বে তেমনি শিক্ষার্থী উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের স্কুলে আসার আগ্রহ বাড়া এবং শিক্ষার গুণগত মান বাড়বে।
মন্তব্য (০)