কক্সবাজার প্রতিনিধি : টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া সংলগ্ন সমুদ্র উপকূল থেকে ট্রলারসহ ৫০ জন মালয়েশিয়াগামী ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় মানব পাচারের সাথে জড়িত এমন অভিযোগে ৯ জন পাচারকারীকে আটক করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
আটককৃতরা হচ্ছে কক্সবাজারের নুরুল ইসলাম, মোহাম্মদ রাজা, মোহাম্মদ ইসমাইল, মোহাম্মদ রফিক, পেকুয়ার মোহাম্মদ আমিন, মহেশখালীর মোহাম্মদ রাসেল, নোয়াখালী জেলার মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন, মোহাম্মদ জসিম ও রংপুর জেলার সুরজ জামাল।
শুক্রবার (৫ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে মধ্যরাত ১২টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড জাহাজ ‘মনসুর আলী’, টেকনাফ কোস্ট গার্ড স্টেশন, শাহপরীর দ্বীপ
ও বাহারছড়া আউটপোস্ট যৌথভাবে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে বলে নিশ্চিত করেছেন কোস্ট গার্ড টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লেঃ কমান্ডার মোঃ মুত্তাকিন সিদ্দিকী।
শনিবার (৬ জুন) দুপুর ১২ টায় টেকনাফ
কেরুনতলী কোস্ট গার্ড মিলনায়তনে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি জানান- সমুদ্রপথে মানবপাচার রোধে কোস্ট গার্ডের নিয়মিত নজরদারির অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযান চলাকালীন সমুদ্র এলাকায় একটি সন্দেহভাজন বোটকে থামার সংকেত (হ্যামার সংকেত) দেওয়া হলে সেটি সংকেত অমান্য করে দ্রুত গভীর সমুদ্রের দিকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরবর্তীতে কোস্ট গার্ডের দল বোটটিকে ধাওয়া করে বাহারছড়া সংলগ্ন সমুদ্র এলাকা থেকে আটক করে। এরপর বোটটিতে তল্লাশি চালিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারকালে ৫০ জন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার এবং ৯ জন মানব পাচারকারীকে আটক করা হয়।
উদ্ধার হওয়া ভুক্তভোগীদের বরাত দিয়ে উক্ত কোস্ট গার্ড কর্মকর্তা জানান, সংঘবদ্ধ পাচারকারী চক্রটি বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরি এবং উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গা নাগরিকদের টেকনাফে নিয়ে আসে। পরবর্তীতে তাদের গোপন আস্তানায় আটকে রেখে নির্যাতন এবং মুক্তিপণ আদায় করা হতো। পাচারকারীরা উদ্ধারকৃতদের সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের পরিকল্পনা করেছিল। এছাড়া, কয়েকজন ভুক্তভোগীকে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অপহরণ করে এনে মুক্তিপণ আদায়ের তথ্যও পাওয়া গেছে।
এদিকে ভিকটিম ২২ নং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ছৈয়দ উল্লাহ জানান, কোরবানি ঈদে হ্নীলা বাজারে ঘুরতে আসলে কয়েকজন যুবক এলোপাতাড়ি মারধর করে এবং চোখ বেঁধে পাহাড়ে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পাহাড়ের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে নিয়ে গিয়ে মানবপাচারকারীদের হাতে বিক্রি করে দেয়।
ট্রলারের মাঝি কক্সবাজার জেলার সদর এালাকার নুরুল ইসলাম জানান, নোয়াখালী জেলার শাহিনশাহ নামের এক ফিশিং ট্রলার কোম্পানির তত্বাবধানে সাগরে মাছ শিকারের গিয়েছিল। সাগরে তিনদিন মাছও শিকার করে। পরে ফিশিংট্রলার মালিক টেকনাফের বাহারছড়া উপকূলে ভিড়তে বলে এবং পাচারের উদ্দেশ্যে জড়ো করে রাখা ভিকটিমদের ট্রলারে উঠাতে বাধ্য করে। এসময় কোস্ট গার্ডের সদস্যরা ট্রলারসহ ভিকটিমদের উদ্ধার করতে সক্ষম হন।
ট্রলারের অপর একজন মাল্লা নোয়াখালীর সাহাব উদ্দিন জানান, মানব পাচারের বিষয়ে সে কিছু জানেনা। তারা মুলত ফিশিং শিকারে এসেছিল এবং তিনদিন ধরে মাছও শিকার করে। হঠাৎ মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে তাদের মানবপাচারে বাধ্য করে।
আটককৃত ও উদ্ধার হওয়া ভিকটিমদের মধ্যে কক্সবাজার জেলা ও বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা রয়েছে।
উদ্ধারকৃত ভুক্তভোগী, আটককৃত মানব পাচারকারী এবং জব্দকৃত বোটের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
মন্তব্য (০)