ছবিঃ সংগৃহীত
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি : টাঙ্গাইলের গোপালপুরে দুই গ্রামের মধ্যে পূর্ব বিরোধের জেরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একজন নিহতের পর ১৪৪ ধারা জারি করেছে প্রশাসন।
শুক্রবার (৫ জুন) ভোর ৬টা থেকে গোপালপুর উপজেলার গোলপেচা এবং ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা এলাকায় এ আদেশ কার্যকর করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ১৪৪ ধারা বহাল থাকবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের গোলপেচা ও ভূঞাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী জগৎপুরা গ্রামের বাসিন্দাদের দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৫ জন।
নিহত কালাম তালুকদার (৬৫) জগৎপুরা গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দোকানে বাকি খাওয়াকে কেন্দ্র করে ২২ এপ্রিল গোলপেচা ও জগৎপুরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জেরেই বৃহস্পতিবার পুনরায় দুপক্ষ মুখোমুখি অবস্থানে যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিকালে গোলপেচা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আলিম ফকির (৫০) নিজ বাড়ির পাশের কৃষিজমিতে কাজ করার সময় জগৎপুরা গ্রামের কয়েকজন তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে তাকে মারধর করে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয়। খবর পেয়ে হেমনগর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের লোকজন দেশিয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে দফায় দফায় ধাওয়া-পালটা ধাওয়া, হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন কালাম তালুকদার। তাকে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
এদিকে সন্ধ্যায় আব্দুল আলিম ফকির ও তার দুই ভাইয়ের বাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে কয়েকটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গোপালপুরের হেমনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামছুল আলম জানান, আগের সংঘর্ষের প্রতিশোধ হিসাবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর জগৎপুড়া গ্রামের কয়েকশত মানুষ লাঠি ও রামদা নিয়ে গোলপেচা গ্রামে হামলা চালায়। হামলায় নারী শিশুসহ অনেকেই আহত হয়। এর মধ্যে হেমনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের অবস্থা গুরুতর।
ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুব হাসান বলেন, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে।
ভূঞাপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, কালাম তালুকদারের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।
গোপালপুর থানার ওসি মো. আনোয়ার হোসেন অগ্নিসংযোগের ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
দিনাজপুর প্রতিনিধি : দিনাজপুর সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে নজর...
ফরিদপুর প্রতিনিধি : ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার পৌরসদরের চন্ডিদ...
লালমনিরহাট প্রতিনিধি:: লালমনিরহাটের সীমান্তের তিনটি পৃথক পয়ে...
নওগাঁ প্রতিনিধি : নওগাঁর বিভিন্ন নদী, খাল, বিল, জলাশয় থেকে প...
পাবনা প্রতিনিধি : পাবনার চাটমোহর উপজেলার বিলচলন ইউনিয়নের নটা...

মন্তব্য (০)