নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, দেশপ্রেম সবার আগে, আজকের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিরা বিজ্ঞানের সহযোগিতা নিয়েই সেই জায়গায় পৌঁছে গেছে। আমেরিকার নাসা কোম্পানি পৃথিবীর সবচেয়ে নামি-দামি রসায়নবিদ পদার্থবিদ বা জ্যোতিবিজ্ঞানীদের তারা নিয়ে নেয়। এ সকল বিজ্ঞানীকে তারা অনেক সুযোগ-সুবিধা দেয় এবং সেখানে স্থায়ী হয়ে যায়। না, এটা করা যাবে না। আপনারা যাবেন, তবে সবার আগে বাংলাদেশ। আপনারা শিখে আসবেন, আরও কিছু আবিষ্কার করে নিজের দেশের জন্য নিয়ে আসবেন। আপনি যাচ্ছেন দেশের গরীব মানুষের অর্থে। আপনি ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার বা বড় বিজ্ঞানী হোন। দেশের জন্য ফিরে আসবেন। বর্তমান সরকার এ বিষয়ে খুবই সক্রিয়। বিজ্ঞানের জন্য আগামী বাজেটে অনেক বেশি বরাদ্দ করা হবে, বাংলাদেশ যেন এগিয়ে যেতে পারে সেজন্য আমাদের প্রচেষ্টা থাকবে।
আজ রবিবার (১৭ মে) সকালে রাজশাহী কলেজ অডিটরিয়ামে রাজশাহী বিভাগীয় প্রশাসন আয়োজিত জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর এর তত্ত্বাবধানে বিভাগীয় পর্যায়ে ৪৭তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিজ্ঞান মেলা, ১০ম জাতীয় বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড ও ১০ম বিজ্ঞান বিষয়ক কুইজ প্রতিযোগিতা-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন ।
খাল খনন কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বলতেন এ দেশ আমার, এ মাটি আমার। ফারাক্কার বিরূপ প্রতিক্রিয়ায় এখানে যে পানি শূন্যতা তৈরি হয়েছে তা নিরসনে খাল খনন করতে হবে। ইরি ধানের উৎপাদন আগে দেশে ছিল না। এই ইরি ধান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ইন্দোনেশিয়া থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। বাংলাদেশী বিজ্ঞানীরা এই ধানের আরও বৈজ্ঞানিক উৎকর্ষ সাধন করে উৎপাদনে বিপ্লব ঘটিয়েছেন। বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছে, সারা বিশ্বে সুনাম অর্জন করছে।
খাবার স্যালাইনকে বাংলাদেশের আবিষ্কার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমাদের এ দেশেরই একজন বিজ্ঞানী যার ওরস্যালাইন আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে সারাবিশ্বে অসংখ্য প্রাণ রক্ষা পাচ্ছে। অল্প পয়সায় এ ওরস্যালাইন পাওয়া যায়। আগে কলেরা হতো, হাজার হাজার শিশু মারা যেত। তারা এই ওরস্যালাইনের মাধ্যমে আল্লাহর রহমতে রক্ষা পাচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, বিশ্বখ্যাত শিকাগোর সুউচ্চ উইলিস টাওয়ারের স্থপতি বাংলাদেশেরই একজন আর্কিটেক্ট ফজলুর রহমান খান। বাংলাদেশ সে সময়ে সারা বিশ্বে অনেক সুনাম অর্জন করেছিল। হয়তো তেমন সহযোগিতা নেই তারপরেও, আমরা আজকে জ্ঞান-বিজ্ঞানে অনেক এগিয়ে যাচ্ছি। আমাদের এই কলেজ থেকেই শিক্ষা অর্জন করেছিলেন একজন পরমাণু বিজ্ঞানী- ড. ওয়াজেদ। সারা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানী ড. জগদীশচন্দ্র বসু যিনি রেডিও তরঙ্গের পাশাপাশি বৃক্ষেরও প্রাণ আছে তা আবিষ্কার করেছিলেন। এই রাজশাহী কলেজ শুধু বাংলাদেশে নয় অবিভক্ত বাংলায় কলকাতার চেয়েও উদ্ভিদবিদ্যায় এগিয়েছিল। আমাদের পাশে যে বোটানিক্যাল গার্ডেন এবং বিল্ডিং দেখছেন, এটা কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজের চেয়ে অনেক সমৃদ্ধ ছিল। আজকের এই খুদে বিজ্ঞানীদের মধ্যে সেই প্রতিভা লুকিয়ে আছে বলে আমি বিশ্বাস করি। এরা খুব দ্রুতই বাংলাদেশকে আবার পৃথিবীর বুকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এ সময় তিনি কৃষিজমি যাতে নষ্ট বা অধিগ্রহণ না হয়, ভবন বা কলকারখানার জন্য ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য আইন প্রস্তুত এবং দুর্ভিক্ষের সময় খাদ্য সংকট মোকাবিলায় বিজ্ঞানের উৎকর্ষতার কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, বিজ্ঞানে সরকারি সহযোগিতা খুবই অপ্রতুল। অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশ ১৯৪৭ সালে বিজ্ঞানে যদিও এগিয়ে ছিল কিন্তু বর্তমানে অন্যান্য দেশ বিজ্ঞান চর্চায় সহযোগিতার কারণে আমাদের চেয়ে দশ থেকে বারো গুণ এগিয়ে গেছে। তারা অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করেছে। এসময় তিনি বিজ্ঞান সবকিছুকে এগিয়ে নেবে এবং এর নেতৃত্বে থাকবে ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ভূমিমন্ত্রী অনুষ্ঠানের শুরুতে বেলুন-ফেস্টুন উড়িয়ে এ মেলার উদ্বোধন করেন এবং বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ. ন. ম. বজলুর রশীদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, জেলা পরিষদ প্রশাসক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজাহান, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আল মামুন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাইমুল হাছান এবং রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ ড. মো. ইব্রাহিম আলী বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা (মাউশি)’র রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক মোহা. আছাদুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে বিভাগের বিভিন্ন কলেজের ৪৮টি দল বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করে। শিক্ষার্থী অভিভাবকসহ বিজ্ঞান মেলার বিচারকমণ্ডলী, বিভিন্ন কলেজের শিক্ষক এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য (০)