রংপুর ব্যুরোঃ রংপুরে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসারে জোর দিয়েছেন বক্তারা।ঝরে পড়া শিশু-কিশোরদের মূলধারায় ফিরিয়ে এনে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই বলেও মত দেন তারা।
রোববার (৫ এপ্রিল) সকালে নগরীর তালুক ধমদাস এলাকায় ইউসেপ বাংলাদেশের আঞ্চলিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়।
এসময় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় আগামীর বাংলাদেশ” শীর্ষক এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বক্তারা।সেমিনারের আয়োজন করে ইউসেপ বাংলাদেশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুল ইসলাম এনডিসি(অতিরিক্ত সচিব)।
বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান এবং ইউসেপ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. মোঃ আবদুল করিম,মো: রফিকুল ইসলাম আঞ্চলিক ব্যাবস্থাপক ইউসেপ রংপুর অঞ্চল।
সভাপতিত্ব করেন ইউসেপ বোর্ড অব গভর্নর্সের চেয়ারপারসন ড. ওবায়দুর রব।
এছাড়া রংপুর চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট এমদাদুল হোসেনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ,উন্নয়নকর্মী ও সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।বক্তারা আরও বলেন, সরকার ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে কারিগরি শিক্ষার বিস্তার ঘটলে বাংলাদেশ দ্রুতই একটি দক্ষ জনশক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে পরিণত হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, “দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই।বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকতে হলে তরুণদের প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জন করতে হবে। এজন্য কারিগরি শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং আধুনিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, দেশে সাম্প্রতিক নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক অগ্রগতির একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।
বিশেষ অতিথি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান বলেন, “চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ কর্মসংস্থান বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমাদের এমন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে, যা সরাসরি কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে।
তিনি স্থানীয় পর্যায়ে শিল্পকারখানা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, এতে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং অঞ্চলভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।
ইউসেপ বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. মোঃ আবদুল করিম বলেন, “শিক্ষা ও দক্ষতার সমন্বয়ের মাধ্যমেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। ঝরে পড়া শিশু-কিশোরদের দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে উৎপাদনশীল জনশক্তিতে পরিণত করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
তিনি জানান, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করে দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ইউসেপ বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে।
সভাপতির বক্তব্যে ড. ওবায়দুর রব বলেন, দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষার প্রসার অত্যন্ত জরুরি।তিনি সরকারি ও বেসরকারি খাতকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দক্ষতা উন্নয়নে সম্মিলিত উদ্যোগই পারে টেকসই অগ্রগতি নিশ্চিত করতে।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে জনসম্পদে রূপান্তর করতে হলে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার পরিধি বাড়াতে হবে।
পাশাপাশি শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে, যাতে প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীরা সরাসরি কর্মক্ষেত্রে যুক্ত হতে পারে।
তারা আরও বলেন, গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশু-কিশোরদের জন্য কারিগরি শিক্ষা সহজলভ্য করতে পারলে দেশের বেকারত্ব সমস্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। এর মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি সামাজিক বৈষম্য হ্রাস করা সম্ভব।
সেমিনারে দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
মন্তব্য (০)