• সমগ্র বাংলা

নওগাঁর পুলিশ লাইন্সে পথচলা শুরু করলো লাইব্রেরী 'বাতিঘর'

  • সমগ্র বাংলা

ছবিঃ সিএনআই

নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁর জেলা পুলিশ লাইন্সে পথচলা শুরু করলো হরেক রকমের বইয়ের সমাহার নিয়ে লাইব্রেরী “বাতিঘর”। জ্ঞানের সঞ্চয়ঘর বলা হয় লাইব্রেরীকে। লাইব্রেরী হচ্ছে একজন মানুষের নিরাপদ আশ্রয়স্থল আর বইগুলো হচ্ছে নিরাপদ বন্ধু। সম্প্রতি নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম সরকারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাতিঘরের উদ্বোধনের ছবিসহ লেখা শেয়ার করেন। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের লাইব্রেরী “বাতিঘর” পরিদর্শন করেছেন।

পুলিশ সুপার তার সরকারি যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লিখেন লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার হলো মানব সভ্যতার জ্ঞান, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের ধারণ ও সংরক্ষণাগার। এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম জ্ঞান ছড়িয়ে দেয়। মানব ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় জ্ঞান সঞ্চালনের চ্যানেল হিসেবে কাজ করে লাইব্রেরী। লাইব্রেরীতে সংরক্ষিত বইগুলি এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে মানুষের অর্জিত জ্ঞান ওকে আর একটু জন্মে ছড়িয়ে দেয়।

লাইব্রেরীর প্রতি দুর্বলতা আমার ছোটবেলা থেকেই ছিল। যখন স্কুলে ছিলাম তখন আমাদের স্কুলের কাছাকাছি ছিল টঙ্গী পৌর পাঠাগার। আমি প্রায়ই বিকেল বেলা সেখানে যেতাম এবং বিভিন্ন ধরনের জ্ঞান এবং বিজ্ঞানের বইয়ের সাথে আমার পরিচয় সেই লাইব্রেরী থেকেই। এরপর থেকে যেখানে গিয়েছি, অথবা বেড়াতে গিয়েছি সেখানকার পরিচিত লাইব্রেরী গুলো ভিজিট করেছি। যদিও বর্তমান সময়ে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে লাইব্রেরী চর্চা অনেকটাই কমে গেছে। কিন্তু আমি যখন ইংল্যান্ডে পড়তে গিয়েছিলাম সেখানে আমি দেখেছি প্রাথমিক পর্যায়ে হতে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত ছাত্রছাত্রীরা জ্ঞান অর্জনের জন্য ব্যাপকভাবে লাইব্রেরী ব্যবহার করে। প্রত্যেক শহরের প্রত্যেক পাড়ায় একটি করে লাইব্রেরী রয়েছে। আমার বাচ্চারা আমার অবস্থানকালীন ১৩ মাসে শতাধিক বই লাইব্রেরি থেকে পড়েছে। অথচ লাস্ট ৭ বছরে ২০টি বেশি বই পড়েছে কিনা আমার সন্দেহ আছে। শিশু বয়স থেকেই বাচ্চাদেরকে লাইব্রেরীর সাথে ইন্টারেকশন করে দিতে হবে তবেই তারা ভবিষ্যতের টিকটক, অনলাইন জুয়া, অনলাইন গেমস ইত্যাদি বাদ দিয়ে বই পড়াই অভ্যস্ত হবে।

দীর্ঘদিন যখন ইন সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে ছিলাম, সেখানে ছোট্ট একটি সুন্দর লাইব্রেরী তৈরি করেছি, বই পড়ার অভ্যেস তৈরি করতে সহকর্মীদের উৎসাহ দিয়েছি। স্বল্প সময় নাটোর জেলায় থাকাকালীন সেখানকার ছোট্ট পুলিশ লাইন লাইব্রেরীকে কিছুটা সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করেছি। বেশ কিছুদিন যাবত নওগাঁ জেলার পুলিশ লাইনে একটি লাইব্রেরীর অভাব অনুভব করছিলাম। পরিশেষে গত একুশে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে নওগাঁ জেলার পুলিশ লাইনের সীমিত পরিসরে একটি লাইব্রেরীর যাত্রা শুরু করলাম। লাইব্রেরীটির নাম দিলাম “বাতিঘর”। আমি আশা করি এই বাতিঘর লাইব্রেরীর মাধ্যমে আমাদের পুলিশ লাইনের পুলিশ সদস্যগণ কিছুটা হলেও বই পড়ার অভ্যস্ত হবে। তাদের মননশীলতা এবং সৃজনশীলতার বিকাশ হবে।

নওগাঁ জেলার ইতিহাস এবং ঐতিহ্য সংক্রান্তে আপনাদের কাছে যদি কোন বই থাকে অথবা আপনারা যারা লেখক আছেন তারা যদি আপনাদের বই পুলিশ লাইন লাইব্রেরী “বাতিঘরে” দান করতে চান তবে আপনাদেরকে সাদর আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আপনারা আপনাদের বইসমূহ ব্যক্তিগত ভাবে অথবা কুরিয়ারে অথবা ডাকে পুলিশ সুপারের কার্যালয় নওগাঁয় পৌঁছে দিতে পারেন। আপনার বইটিও সযত্নে আমাদের পুলিশ লাইন লাইব্রেরীতে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম সংরক্ষিত থাকবে। অনেকে হয়তো বা পড়বে। চলুন আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের পরিমিত অথবা প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করে অবসর সময় লাইব্রেরীতে বই পড়ার অভ্যাস করি। এই অভ্যাস আপনার ভিতরে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাবে।

অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান প্রযুক্তির অসম ব্যবহারের কবলে আমরা দিন দিন বই থেকে অনেক দূরে সরে যাচ্ছি। হাতে বই নিয়ে একের পর এক পাতা পড়ার মজা পাওয়া থেকে আমরা দূরবাসিনী হয়ে পড়ছি। জ্ঞানে সমৃদ্ধশালী আগামীর প্রজন্ম বিনির্মাণ করতে লাইব্রেরীর কোন বিকল্প নেই। বড়রা যদি নিজের বাড়িতে পছন্দমাফিক অল্প সংখ্যক বই সংগ্রহ করে পড়া শুরু করে তাহলে আগামীর প্রজন্মরাও বই পড়ার প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠবে। পুলিশ সুপার মহোদয়ের এমন মহৎ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে। জানতে হলে বই পড়তে হবে, জ্ঞানে সমৃদ্ধশালী প্রজন্ম গড়তে হলে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। তাই নিজের পরিবার থেকেই বেশি বেশি বই পড়ার ধারা চালু করতে তিনি সবার প্রতি আহ্বান জানান।

মন্তব্য (০)





  • company_logo