নিউজ ডেস্কঃ শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে যারা হামলা চালিয়েছে তাদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম। সেই সঙ্গে পুলিশের মধ্যে পুলিশ লীগের যে সদস্যরা আছে তাদের বিচারের মুখোমুখি করারও দাবি জানান তিনি।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে বাগেরহাট শহরের খানজাহান আলী মাজার মোড় এলাকায় প্রতিবাদ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ দাবি জানান ডাকসু ভিপি।
সাদিক কায়েম বলেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে যারা হামলা করেছে তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। সেই সঙ্গে পুলিশের মধ্যে পুলিশ লীগের যে সদস্যরা আছে তাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। পুলিশকে লীগমুক্ত করতে হবে। এ ছাড়া শহীদ ওসমান হাদিসহ সব শহীদের হত্যাকারীর বিচারের দাবি জানান এই ছাত্র নেতা।
জাতীয় নির্বাচন ইস্যুতে সাদিক কায়েম বলেন, স্বাধীনতার পরে আমরা অনেক এমপি বানিয়েছি, কিন্তু আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না, তারা আমাদের প্রতারিত করেছেন। আমরা নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে এবার দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে চাই।
বাগেরহাট-২ আসনে জামায়াতের সংসদ সদস্য প্রার্থী শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদকে ভোট দেয়ার আহ্বান জানিয়ে সাদিক কায়েম বলেন, শেখ মঞ্জুরুল হক রাহাদ বিজয়ী হলে তিনি শাসক হবেন না; বাগেরহাটবাসীর সেবক হবেন। বাগেরহাটের সব সমস্যায় আপনারা তাকে পাশে পাবেন।
বাগেরহাটের খানজাহান আলী মাজার মোড় থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বাগেরহাট জেলা শাখার উদ্যোগে শরিফ ওসমান হাদি হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দ্রুত এবং ইনকিলাব মঞ্চের শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। ছবি: সময় সংবাদ
গণভোট ইস্যুতে সাদিক কায়েম বলেন, গণভোটে ‘হ্যা’ ভোট দেয়া মানে আজাদী। এই দেশকে শোষনমুক্ত দেশ হিসেবে গড়তে সবাইকে গণভোটে ‘হ্যা’ ভোট দেয়ার আহবান জানান তিনি।
এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মঞ্জুরুল হক রাহাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য বিল্লাল হোসেন অপু, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বাগেরহাট শাখার আহ্বায়ক এসএম সাদ্দাম হোসেন, জামায়াতে ইসলামী বাগেরহাট শাখার সেক্রেটারি মো. ইউনুস শেখসহ জামায়াতে ইসলামী ও ছাত্রশিবিরের কয়েক হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে বাধা দেয় পুলিশ। এ সময় সাউন্ড গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের, রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারসহ অন্তত ৪০ জন।
এ হামলার প্রতিবাদে বাগেরহাটের খানজাহান আলী মাজার মোড় থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বাগেরহাট জেলা শাখার উদ্যোগে মিছিল বের করা হয়। মিছিল শেষে সমাবেশে হাদির হত্যাকারীদের গ্রেফতারের জন্য সরকারকে ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেন ছাত্র নেতা বেলাল হোসেন অপু।
মন্তব্য (০)