নিউজ ডেস্ক : দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর অভিবাসী ইস্যুতে কঠোর অবস্থান নেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই এক বছরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ঠেকিয়েছেন লাখ লাখ অভিবাসীর প্রবেশ, সরকারি সহায়তাকারীদের ওপর হয়েছেন কঠোর এবং যুক্তরাষ্ট্রে থাকা বহু অভিবাসীর সুরক্ষা প্রত্যাহারও করেছেন। এবার আরও কঠিন নীতিতে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন।
অবৈধ অভিবাসন বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমতায় আসা ট্রাম্প খোলনচলে পাল্টে দিয়েছেন দেশটির কিছু নিয়ম। এই অভিবাসী বিরোধী অভিযানে ট্রাম্পের প্রধান বাস্তবায়নকারী হিসেবে ছিল দেশটির সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস। সাবেক আইস (আইসিই) কৌঁসুলি ও ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের কর্মকর্তা জোসেফ এডলো বর্তমানে সংস্থাটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কট্টর অবস্থানের জন্য তিনি পরিচিত। ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসন সামনে আরও কঠোর হতে পারে। এরমাঝে থাকতে পারে অথবা থাকবে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি ধাপ।
> কঠোর যাচাই-বাছাই ও বাড়তি প্রয়োগ
নাগরিকত্ব পরীক্ষাকে আরও কঠিন করার পরিকল্পনা নিয়েছে সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস। ‘সৎ চরিত্র’ প্রমাণে মানদণ্ড কঠোর করা হয়েছে। আবেদনকারীদের এখন কমিউনিটির সঙ্গে সম্পর্ক, সামাজিক অবদান ও ইতিবাচক গুণাবলি দেখাতে হচ্ছে।
> ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় আবেদন কার্যত স্থবির
সম্প্রসারিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য আশ্রয় ও অভিবাসন আবেদনের প্রক্রিয়া থমকে গেছে। ক্যাটো ইনস্টিটিউটের পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, এতে বৈধ অভিবাসনের প্রক্রিয়ায় থাকা প্রায় ২০ শতাংশ আবেদনকারী কার্যত বাদ পড়ছেন। নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দেশের পাসপোর্টধারীরা যুক্তরাষ্ট্রে থাকলেও নতুন সুবিধার আবেদন, নবায়ন বা স্ট্যাটাস পরিবর্তন করতে পারছেন না। কবে নাগাদ পারবেন, তাও নিশ্চিত নয়।
> কর্মভিসার মেয়াদ কমানো
বিদেশি কর্মীদের কাজের অনুমতিপত্রের মেয়াদ ৫ বছর থেকে কমিয়ে ১৮ মাস করা হয়েছে। প্রশাসনের দাবি, এতে প্রতারণা কমবে এবং ‘সম্ভাব্য ক্ষতিকর উদ্দেশ্য’ শনাক্ত করা সহজ হবে।
> সরকারি সহায়তার প্রয়োজন নেতিবাচক হিসেবে গণ্য
নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ নিয়মে কোনো আবেদনকারী ভবিষ্যতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সহায়তা নিলে তা আবেদন বাতিলের নেতিবাচক কারণ হিসেবে ধরা হবে।
যদিও অনথিভুক্ত অভিবাসীরা SNAP বা Medicaid-এর মতো সুবিধা পান না। তবে মিশ্র-স্ট্যাটাস পরিবারে থাকা কিছু বৈধ অভিবাসী বা মার্কিন নাগরিক এসব সুবিধা পান—যা এখন ঝুঁকির মুখে।
> মানবিক কর্মসূচি বাতিল, প্রায় ১০ লাখ মানুষের স্ট্যাটাস হারানো
ট্রাম্প প্রশাসন ১১টি দেশের নাগরিকদের জন্য টেম্পোরারি প্রোটেক্টেড স্ট্যাটাস বাতিল করেছে। এতে ১৯৯৮ সাল থেকে সুরক্ষায় থাকা হন্ডুরাস ও নিকারাগুয়ার প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এছাড়া কিউবান, হাইতিয়ান, নিকারাগুয়ান ও ভেনেজুয়েলানদের জন্য থাকা প্যারোল কর্মসূচি বাতিল হওয়ায় আরও প্রায় ৫ লাখ মানুষ আইনি মর্যাদা হারিয়েছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ না ছাড়লে তারা বহিষ্কারের ঝুঁকিতে পড়বেন।
অভিবাসন নীতির এই কড়াকড়ি ইস্যুতে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেইল জ্যাকসন বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হলো আমেরিকান জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষা করা। তার সাধারণবোধসম্পন্ন সংস্কারগুলো সেই লক্ষ্যই প্রতিফলিত করে।
সূত্র: অক্সিওস
মন্তব্য (০)